1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
রামেক ইন্টার্ন পরিষদ নির্বাচনে ‘ঐক্যের অঙ্গীকার’ প্যানেলের ভূমিধস বিজয় মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আস্থা রাখতে চান তৃণমূল কর্মীরা ‘শিশু নোবেল’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত তজুমদ্দিনে ফুলকুঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেখা ম্যাডামের বিদায় সংবর্ধনা ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে ট্রেড লাইসেন্সের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সচিব মাসুদ করিমের বিরুদ্ধে পাহাড়ের রামগড় থেকে নজরুল বর্ষের মঞ্চে দুই খুদে প্রতিভা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ৬ মাসের জন্য স্থগিত এপিপি হযরত আলী হিরন খুলনার ডুমুরিয়ায় রাস্তায় রান্না, ঘরের মাচায় ঘুম ঢাকায় নিখোঁজ কলেজছাত্রের লাশ ডিমলায় উদ্ধার,জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের নাম

হরিরামপুরে তিন মাস ধরে নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ দেখেছেন

হাসান শিকদার,মানিকগঞ্জ : ‎গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ (২য় পর্যায়) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা ঠাকুরপাড়া ও ব্যাসদি এলাকায় ১৫শ মিটার এইচবিবি রাস্তার কাজ ৬ মাস আগে শুরু করে প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হলেও তিন মাস যাবত রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে ওই এলাকার জনগণ হাঁটা চলাচল সহ মালামাল নিয়ে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
‎
‎জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে উপজেলার  বাল্লা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিটকা ঠাকুরপাড়া মোহাম্মদ আলীর বাড়ি হতে ইয়াকুব মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার, একই গ্রামের আসর উদ্দিন মোল্লার বাড়ি হতে শুকুর আলীর বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার ও একই ওয়ার্ডের ব্যাসসী গ্রামের ওবায়দুরের বাড়ি হতে মজনুর বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার সহ মোট ১৫০০ মিটার রাস্তা হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) করণ রাস্তার কাজের দরপত্র আহবান করা হলে ১ কোটি ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৮.৩৫ টাকায় কাজটি পায় মেসার্স সালেক এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
‎
‎গত ৯ মে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত এই রাস্তার কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকে কাজ শুরুর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো কাজের প্রায় ৫০% রয়েছে অসম্পূর্ণ। প্রায় তিন মাস যাবত রাস্তাটির কাজ বন্ধ রয়েছে। এতে করে দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় দশটি গ্রামের জনগণ।
‎
‎৪ অক্টোবর (রোববার) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় ঝিটকা ঠাকুরপাড়া মোহাম্মদ আলীর বাড়ি হতে ইয়াকুব মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার ও একই গ্রামের আছর উদ্দিন মোল্লার বাড়ি হতে শুকুর আলীর বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার দুটি রাস্তার ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বৃষ্টিতে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ধ্বসে গেছে। ইটের উপরে কোনো বালু না থাকায় যেকোনো যানবাহন চলাচলের সময় ইটগুলো নড়বড়ে করে ওঠে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। বাকি প্রকল্পটি ব্যাসসী গ্রামের ওবায়দুরের বাড়ি হতে মজনুর বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তাটির কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি।
‎
‎একাধিক স্থানীয়রা দাবি করেন, ছয় মাস আগে রাস্তার কাজ শুরু করলেও এখনো রাস্তার কাজ শেষ হয় নাই। প্রায় তিন মাস আগে থেকে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি অফিসের কোনো লোক কাজটি তদারকির জন্য আসেনি।
‎
‎ঠাকুরপাড়া গ্রামের জুলমত আলী জানান, আমরা খুব অসুবিধার মধ্যে আছি। আজ প্রায় দুই/ তিন মাস যাবত রাস্তার কাজ বন্ধ। একটু বৃষ্টি নামলে আমরা চলাফেরা করতে পারি না। মালামাল নিয়ে হাটবাজারে যেতে পারি না।  যেটুকু কাজ হয়েছে অনেক জায়গায় ধ্বসে গেছে। ইটের নিচে বালো না থাকায় ইট গুলো নড়বড়ে করে। হলে চলাচলে বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের। আমাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব এই রাস্তাটির কাজ শেষ করা হোক।
‎
‎একই গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, রাস্তার কাজ করতে এসে আমাদের অসুবিধা করে দিয়ে গেছে। আজ দুই আড়াই মাস যাবত কেউ এদিকে খোঁজ খবর নেয় না। আমাদের এখানে লোকজন খুব কষ্ট করে চলাচল করছে। হাটবাজারে মালামাল নিয়ে যাতায়াতের খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার কাজ যতটুকু করছে সেগুলো বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
‎
‎বৈকার হাট গ্রামের ইজিবাইক চালক সুজাত জানান, এই রাস্তার কাজ ধরছিল ওই মাথা থেকে। আমাদের এই মাথায় এখন পর্যন্ত আসে নাই। প্রায় দুই আড়াই মাস যাবত রাস্তার কাজ বন্ধ। এতে জনগণের চলাচলে খুব কষ্ট হচ্ছে। একটু বৃষ্টি নামলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ছয় মাস আগে রাস্তার কাজ ধরছে। এখনো রাস্তাটি শেষ করতে পারল না। আর দুই আড়াই মাস যাবত  তো রাস্তার কাজই বন্ধ। আমাদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব এ রাস্তার কাজ শুরু করে রাস্তাটি সম্পূর্ণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
‎
‎৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, এ রাস্তার মোট কাজের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ হয়েছে। বাকি অর্ধেক এখনো ধরাই হয় নাই। প্রায় তিন মাস ধরে রাস্তার কাজ বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ খবর আমরা পাইতেছি না। রাস্তার মাঝখানে গ্যাপ রেখে কাজ করার কারণে  জনগণের অনেক সমস্যা হচ্ছে। এই এলাকার কৃষি পণ্য নিয়ে হাট বাজারে যাওয়ার জন্য যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। একটু বৃষ্টি নামলে পায়ে হেঁটে চলাই কষ্টকর। যত দ্রুত সম্ভব রাস্তার কাজ শেষ করে দিলে জনগণ উপকৃত হবে।
‎
‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি। তারা দু’এক দিনের ভিতরে রাস্তার কাজ শুরু করবে। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, রাস্তার কাজ যতটুকু হয়েছে, ভারী বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। চলাচলের সময় ইটগুলোও নড়বড়ে করে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে, যেটুকু রাস্তার কাজ হয়েছে, সমস্ত ইটগুলো তুলে পুনরায় আবার সুন্দর করে বসিয়ে দিতে হবে। তবে রাস্তার কাজ সঠিক  না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কোনো বিল প্রদান করব না। এখনো তাকে কোনো বিল দেওয়া হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.