প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৯০ দিনের ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশনায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে নগরীর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও পর্যায়ক্রমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শনিবারের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তানজিলা খানম। এ সময় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে তাঁকে সহযোগিতা করেন সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন, টঙ্গী জোন-১-এর সহকারী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান আরিফুর রহমান, টঙ্গী অঞ্চল-১-এর মশক নিধন সুপারভাইজার মাইনুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রায় ৫০০ জনবল এ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় একযোগে ফগিং, লার্ভিসাইড প্রয়োগ, মশার ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
অভিযানের আওতায় মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ, নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং আশপাশের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্থানে ফগিং ও মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা খানম বলেন, “এই কার্যক্রম ৯০ দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।” নগরবাসীকে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন সিইওর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু মশার ওষুধ ছিটানো বা ফগিংয়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের জন্যও নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ৯০ দিনের কর্মসূচির পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নগরীতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।