1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
প্রধানমন্ত্রীর ৯০ দিনের কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় গাজীপুরে মশক নিধন অভিযান জোরদার, মাঠে ৫০০ কর্মী বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জৈব সার: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন সম্ভাবনার প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী পূর্বধলায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক পলাতক বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বেড়িবাঁধের আগাছা পরিষ্কারে বেতাগীতে ইউএনওর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেশবপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কল্যাণ সংস্থার মাসিক সভা অনুষ্ঠিত কালকিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা;সভাপতি রকিবুজ্জামান ও সাধারন সম্পাদক কাইয়ুম বাঘায় পরকীয়ার অভিযোগে যুবককে মারধর, পরে বাড়িতে আগুন সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে প্রতিরোধ মিছিল আশুগঞ্জে মাহিদার ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন

উচ্ছেদ আদেশের পরও মেলেনি দখল, রাড্ডার জমি নিয়ে সমমনা সমিতির সংবাদ সম্মেলন

  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ দেখেছেন

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জমির বরাদ্দ, দখল, উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশ এবং সাম্প্রতিক স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) কাছ থেকে বরাদ্দ পাওয়া জমির দখল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড। একই সঙ্গে রাতের আঁধারে স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সম্পাদক শাহ আলম এসব কথা বলেন। তাঁর দাবি, ২০০৬ সালে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সমিতির নামে জমিটি বরাদ্দ দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা বাস্তবে জমির দখল বুঝে পাননি। বরাদ্দ পাওয়ার পরও নানা কারণে জমিতে প্রবেশ ও দখল গ্রহণ সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
২০০৬ সালে বরাদ্দ, দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ২০০৬ সালে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের পরও জমিটির বাস্তব দখল সমিতির কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহ আলম আরও অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে সাবেক কাউন্সিলর কাশেম মোল্লার নেতৃত্বে রাড্ডা ক্লিনিকের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন জমিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির বরাদ্দ, দখল ও হস্তান্তরসংক্রান্ত সরকারি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সমিতির পক্ষ থেকে উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই আদেশের তারিখ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং আদেশের পরও কেন দখল হস্তান্তর করা হয়নি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথি যাচাই করা জরুরি।
‘রাতের ভাঙচুরে সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই’রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমিতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন উঠলে তা নাকচ করেন সম্পাদক শাহ আলম। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে স্থাপনা ভাঙার ঘটনায় সমিতির কেউ জড়িত নন।তিনি জানান, রাতে কারা বা কোন পক্ষ স্থাপনাটি ভাঙচুর করেছে, সে বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি খালি দেখতে পান। এরপর সমিতির পক্ষ থেকে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয় বলে জানান তিনি।
শাহ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন ও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি।তবে ভাঙচুরের সময় কারা ঘটনাস্থলে ছিলেন, কারা স্থাপনাটি ভেঙেছেন এবং ঘটনার আগে-পরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা এদিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় কয়েকশ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলার এজাহার, আসামিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
একদিকে সমিতির পক্ষ থেকে ২০০৬ সালের বরাদ্দের ভিত্তিতে জমিটির ওপর অধিকার দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ফলে জমির বৈধ দখল, স্থাপনার আইনগত অবস্থান এবং সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি জরুরি হয়ে উঠেছে।
বরাদ্দপত্র ও উচ্ছেদ আদেশ যাচাইয়ের দাবি
সমিতির নেতাদের দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মূল বরাদ্দপত্র, জমির রেকর্ড, দখল হস্তান্তরসংক্রান্ত নথি এবং উচ্ছেদ-সংক্রান্ত আদেশ পর্যালোচনা করলেই জমিটির আইনগত অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।২০০৬ সালে বরাদ্দ দেওয়ার পরও সমিতিকে কেন দীর্ঘদিন দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কী ভূমিকা ছিল এবং অতীতে কোনো উচ্ছেদ আদেশ জারি হয়ে থাকলে তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের জমি ও স্থাপনার বৈধতার পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বরাদ্দপত্র, অনুমোদন বা অন্যান্য দলিল থাকলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা উচিত। এতে উভয় পক্ষের দাবি যাচাইয়ের পাশাপাশি জমিটির প্রকৃত আইনগত অবস্থান নির্ধারণ সহজ হবে।
ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব প্রশ্ন সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থাপনাটি কখন ও কীভাবে ভাঙা হয়েছে, কারা এতে অংশ নিয়েছেন, ঘটনাস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন বা প্রশাসনিক নির্দেশ ছিল কি না এবং ভাঙচুরের পর কারা সেখানে উপস্থিত হয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি, জমি বরাদ্দের পর সমিতির দখল গ্রহণে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল, জমিটি নিয়ে অতীতে কোনো মামলা বা আদালতের আদেশ রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিতে বর্তমানে জমিটির অবস্থান কী—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি। জমির মালিকানা বা দখল নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা ভাঙচুর কিংবা সংঘাতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের।
প্রশাসনিক ও আইনগত নিষ্পত্তির দাবি সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রয়োজনে আদালতের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। জমির বরাদ্দ ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ এবং স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগকে পৃথকভাবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা জরুরি।
সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির দাবি নথিপত্রে প্রমাণিত হলে বরাদ্দের পরও দখল হস্তান্তর না হওয়ার কারণ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, স্থাপনা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করতে হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, মূল বরাদ্দপত্র ও জমির রেকর্ড যাচাই, উচ্ছেদ আদেশ ও আদালতের নথি পর্যালোচনা এবং সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন সম্ভব।
জমিটি কার নামে বরাদ্দ, বৈধ দখল কার এবং রাতের ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে সরকারি নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.