কুতুবপুর ভূমি অফিসে সাংবাদিককে বাধা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া,নামজারি সেবায় ২৫ হাজার টাকা দাবি , হুমকি ও টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ| নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিককে বাধা, অসৌজন্যমূলক আচরণ, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সলিমুল্লার বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় নামজারি সেবা দিতে ২৫ হাজার টাকা দাবি এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিককে টাকা দেওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. ইব্রাহিম সংবাদ সংগ্রহের জন্য কুতুবপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। সেখানে ভূমিসেবা নিতে আসা দুলাল ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁরা সেবা না পেয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিক ইব্রাহিম তাঁদের কাছে বিষয়টি জানতে চান।
এ সময় উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা সলিমুল্লাহ সাংবাদিক ইব্রাহিমের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁর হাতে থাকা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। সাংবাদিকের অভিযোগ, একপর্যায়ে সলিমুল্লাহ তাঁর দিকে তেড়ে এসে আঙুল উঁচিয়ে হুমকিও দেন।
অন্যদিকে দুলাল ও তাঁর স্ত্রী অভিযোগ করেন, নামজারি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য তাঁদের কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের সেবা না দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। সেবা পাওয়ার আশায় টানা চার দিন ভূমি অফিসে এসে ফিরে যেতে হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
সাংবাদিক ইব্রাহিমের অভিযোগ, ঘটনার সময় ভূমি অফিসের উমেদার ও কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি এবং কথিত দালালচক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোতালেব তাঁকে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সাংবাদিক ইব্রাহিম বারবার সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ইব্রাহিম বলেন, সাংবাদিকের সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা হরণের অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে—এ প্রশ্ন আমি করেছি। ন্যায়বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।সাংবাদিকের আরও অভিযোগ, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোতালেব তাঁকে বলেন, থানায় অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ফতুল্লা থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব তাঁর বন্ধু এবং অভিযোগ করা হলে ঐ কর্মকর্তা তাঁকে ফোন দেবেন বলেও মোতালেব দাবি করেন।
সাংবাদিক ইব্রাহিম জানান, বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপতারা ও সাতগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে সলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, দুর্ব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল।