1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ডে কৃষি কর্মকর্তাকে তথ্য দেওয়ার পর চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক যুবদলের নেতা রামেক ইন্টার্ন পরিষদ নির্বাচনে ‘ঐক্যের অঙ্গীকার’ প্যানেলের ভূমিধস বিজয় মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আস্থা রাখতে চান তৃণমূল কর্মীরা ‘শিশু নোবেল’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত তজুমদ্দিনে ফুলকুঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেখা ম্যাডামের বিদায় সংবর্ধনা ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদে ট্রেড লাইসেন্সের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ সচিব মাসুদ করিমের বিরুদ্ধে পাহাড়ের রামগড় থেকে নজরুল বর্ষের মঞ্চে দুই খুদে প্রতিভা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজাদপুর থানার যৌথ উদ্যোগে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। ৬ মাসের জন্য স্থগিত এপিপি হযরত আলী হিরন খুলনার ডুমুরিয়ায় রাস্তায় রান্না, ঘরের মাচায় ঘুম

অতিবৃষ্টিতে খাটো হয়েছে পাটগাছ, উৎপাদন কমে দুশ্চিন্তায় লালমনিরহাটের কৃষক

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ১ দেখেছেন

চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দামের প্রত্যাশায় লালমনিরহাটে আবাদ বেড়েছে। তবে মৌসুমের শুরু থেকেই টানা অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় গাছ খাটো হয়েছে এবং আঁশের উৎপাদনও কমেছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উঠে আসবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন জেলার কৃষকরা।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর অধিকাংশ পাটগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত খাটো হয়েছে। সাধারণত একটি পাটগাছের উচ্চতা ৮ থেকে ১২ ফুট হলেও এবার অধিকাংশ ক্ষেতেই সেই উচ্চতা অর্জন করতে পারেনি।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এর প্রভাবে প্রতি বিঘায় গড়ে ৪০ থেকে ৬০ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কমতে পারে।
আদিতমারী উপজেলার কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, “গত বছর প্রতি বিঘায় প্রায় ৬ মণ পাট পেয়েছিলাম। ভালো বাজারদরের আশায় এবারও পাট আবাদ করেছি। কিন্তু এবার ফলন নেমে এসেছে ৫ মণের নিচে।”

একই উপজেলার কৃষক শহিদুল মিয়া জানান, জীবনে এত খাটো পাটগাছ দেখেননি। গাছ ছোট হওয়ায় আঁশও কম হয়েছে। ফলে বাজারে দাম ভালো থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় লাভের আশা অনেকটাই ক্ষীণ।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “গত বছরের ভালো দামের কারণে অতিরিক্ত এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিন বিঘায় পাট আবাদ করেছি। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। গত বছর তিন বিঘা জমি থেকে ১৭ মণ পাট পেয়েছিলাম, এবার উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ মণ।”
কৃষকদের ভাষ্য, একের পর এক মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাট জেলায় ৪ হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭৩০ হেক্টর বেশি। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৪৯ মেট্রিক টন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, “বীজ বপন ও চারার বৃদ্ধির সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। ফলে গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত কমেছে এবং প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত আঁশের উৎপাদন কম হতে পারে।”
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উজানের ঢলের প্রভাবে লালমনিরহাটে স্বাভাবিক ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের বিপরীতে প্রায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এছাড়া মে মাসে রংপুর বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান রনি জানান, ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৪৫ শতাংশ পাট কাটা হয়েছে। অবশিষ্ট পাটও চলতি মাসের মধ্যেই কাটা শেষ হবে। এরপর বাজারে নতুন পাটের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন কমলেও জেলার অধিকাংশ স্থানে সন্তোষজনক ফলনের আশা রয়েছে। কৃষকদের সহায়তায় সরকার উন্নতমানের বীজ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.