1. masudkhan89@gmail.com : Ghoshana Desk :
  2. zunayedafif18@gmail.com : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. masudkhan89@yahoo.com : Masud Khan : Masud Khan
ব্রেকিং নিউজ :
‎দক্ষিণ আইচায় ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ইসলামপুর পশ্চিমে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বাবুল আহমদ সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে সিএনজি চলাচল স্বাভাবিক নিরাপদ সড়ক জিন্দারপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাজ্জাদুল হকের গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ সুন্দর,আনন্দময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‎২১ বছর পর এসআরবি’র জালে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কক্সবাজারে এসআরবি-১৫ এর পৃথক অভিযানে ৬০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ ‎ছয় লাখ মানুষের জন্য নেই আইসিইউ, সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে ছুটতে হয় দূরের হাসপাতালে রাজশাহীতে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষ অভিযান, আটক ৫৫ যানবাহন

অপরাধ দমনে ছয় মাসের সাফল্য তুলে ধরলেন জিএমপি কমিশনার

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
  • ০ দেখেছেন

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত অপরাধ দমন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ছয় মাসের সফলতা ও ব্যর্থতা তুলে ধরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের( জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, পুলিশের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি জনসম্পৃক্ততা।

তিনি মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি হেডকোয়ার্টারের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্যে এ কথা বলেন।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ধরণের সাফল্য দেখিয়েছে জিএমপি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে জিএমপির বিশেষ অভিযানে ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা করেছে। এই সময়ে মহানগরীর ৮টি থানায় মামলা রুজু হয়েছে ১ হাজার ৪৫৪টি।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ৬ মাসে রুজুকৃত ১ হাজার ৪৫৪টি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা ও ডাকাতি মামলা ২০টি, ৭টি ডাকাতি ও ২৮টি ছিনতাই মামলা। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, বিভিন্ন অভিযান ও মামলা দায়ের করার পাশাপাশি পুলিশ মোট ৩ হাজার ২১৭ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছেন। এসব আসামীর মধ্যে ৪৬ জন ছিনতাইকারী, ২৩ জন ডাকাত এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন এবং ৪৬ লিটার দেশীয় মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর মাদক সংক্রান্ত ৮১২টি এবং অস্ত্র সংক্রান্ত ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও, অপরাধ দমনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জিএমপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। গত ৬ মাসে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গত ২১ জুন এবং ৩ জুলাই মহানগরীর পৃথক স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের ওপর হুমকির ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক নাশকতাকারীকে শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি, টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় শিল্প খাতের অন্যতম উৎস ‘ঝুট’ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকারীদের কঠোরভাবে দমন করেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঝুট ব্যবসায় অবৈধ প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে আরও কঠোরভাবে দমন করা হবে।
জিএমপি কমিশনার মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিএমপির জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর মাজার বস্তি, কেরানীর টেক এবং এরশাদ নগরের মতো দুর্ভেদ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ বস্তিগুলোতে জিএমপি নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের শুধু গ্রেপ্তারই নয়, তাদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানও শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, মহানগর এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ কালচার সমূলে উৎপাটন করতে গ্যাং সদস্যদের একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

জিএমপির আধুনিক প্রযুক্তির দূরদর্শী ব্যবহারের ফলে মহানগর এলাকায় অপহরণ এবং ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া পুলিশি তৎপরতা ও নজরদারির কারণে বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বিগত ৬ মাসে উদ্ধার হওয়া ২০টি লাশের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ১৯টিরই পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মো: তাহেররুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মো: বেলায়েত হোসেন, উপ পুলিশ কমিশনারগনসহ উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষাংশে, গাজীপুর মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন জিএমপি কমিশনার এবং তিনি মহানগরীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে সাধারণ নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By Rahat IT Ltd.