কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলা এর বিন্না হারান্জা গ্রামের কৃষক মোঃ রিটন মিয়া এবার বেহা বিলে ১৭ কাটা জমি ভাগে নিয়ে ধান চাষ করেছিলেন। ভালো ফলনের আশায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা সুদে ঋণ নিয়ে জমিতে ধান আবাদ করেন তিনি। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধিতে তার পুরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
ফসল বাঁচাতে এখন মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন এই কৃষক। কিন্তু এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট থাকায় প্রতি কাটা ধান কাটার জন্য ১৫শ টাকা মজুরি ঘোষণা করেও কোনো শ্রমিক পাচ্ছেন না তিনি। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানির নিচে নেমে নিজেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন রিটন মিয়া।
দীর্ঘ সময় পানির নিচে ডুবে থাকায় ধানের শীষে চারা গজিয়ে গেছে। এতে করে ধানের মান নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিটন মিয়া বলেন,“সুদে টাকা এনে ধান চাষ করছি। এখন সব পানির নিচে। শ্রমিক পাই না, তাই নিজেই পানির নিচে নেমে ধান কাটতেছি। ধানে চারা জইলা গেছে, এখন কীভাবে সংসার চালামু বুঝতেছি না।”
তিন ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা এই কৃষক জানান, ধান বিক্রির টাকাতেই পরিবারের ভরণপোষণ চলত। কিন্তু ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বেহা বিলের খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাট হয়ে থাকায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। তারা দ্রুত খাল দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কৃষকদের এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়।