ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের খাসমহল এলাকায় অবস্থিত একটি দক্ষিণ হাসান নগর কমিউনিটি ক্লিনিককে ঘিরে উঠেছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্ব অবহেলার গুরুতর অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিকটিতে নিয়মিত অডিট ও জবাবদিহিতা না থাকায় সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকারিভাবে গরিব ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ যথাযথভাবে রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাখায়ত নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ না দিয়ে ওষুধ নেই বলে ফিরিয়ে দেন। এতে বেরিবাদে থাকা নদীভাঙন হতদরিদ্র এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বে কর্মরত একজন দক্ষ নার্সকে সরিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীকে ওই ক্লিনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সি এইচ সি পি সাখায়ত হোসেনের তদবিরে। অথচ তিনি চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ নন বলে দাবি স্থানীয়দের। এর ফলে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগছেন। এমনকি কয়েকজন গর্ভবতী নারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ভুল চিকিৎসার কারণে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, বর্তমানে ক্লিনিকটিতে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম যেন নিত্যদিনের চিত্র। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গেলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, আগের নার্স মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। এখন চিকিৎসা নিতে গেলেই অপমানিত হতে হয়।
ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক প্রধান গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, বছরের পর বছর অনিয়মের অন্ধকারে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর টি এইচ ও’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের অপসারণ এবং প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সৎ, দক্ষ ও মানবিক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।