০৭ মে, ২০২৬ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর এলাকায় ‘এবিএম (ABM)’ নামক একটি ইটের ভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও আগুন ছেড়ে দেওয়ার ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও কৃষকদের সাথে বিশেষ কথা বলেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থিত আরজু মিয়ার মালিকানাধীন এবিএম (ABM) ইট ভাটা থেকে হঠাৎ করে মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়া ও আগুন ছেড়ে দেওয়া হয়। এতে মুহূর্তের মধ্যেই ভাটার চারপাশের কয়েকশ বিঘা জমির ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চোখের সামনে নিজেদের কষ্টের ফসল নষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শতশত কৃষক।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান।তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলেন। এ সময় কৃষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতির জন্য ভাটা কর্তৃপক্ষের বিচার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
কথা বলার শেষে কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন:
ফসলের এই ক্ষতি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, আমরা তার সঠিক কৃষকদের পাশে আমরা আছি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে। কৃষকদের আহাজারি ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, প্রতি বছরই এই ইট ভাটার কারণে তারা কমবেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। কিন্তু এবার আগুনের আঁচ ও গ্যাস ছেড়ে দেওয়ার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তেই সবুজ ফসল তামাটে বর্ণ ধারণ করে মরে গেছে। মালিক পক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় কৃষকরা সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভাটা মালিক আরজু মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতই ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠানো হবে যাতে কৃষকরা সরকারি সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।