সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিস্তৃত আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক মতামত প্রদান করেন।
সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এ সময় বক্তারা বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের বিস্তার একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়। তারা মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যুবসমাজকে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে মানবপাচার প্রতিরোধ নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জনসাধারণের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। মানবপাচার প্রতিরোধে তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপজেলার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে সেবার মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও রতন কুমার অধিকারী বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি এবং ভবিষ্যতেও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সভা শেষে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।