বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সম্প্রতি দেশে “সুন্দরী নারীর সাথে বিয়ে” দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ এবং অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ঠিক এমনটাই ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের যুবক জুলফিকার আলীর সাথে।
সম্প্রতি আর্ণিকা (তপাসু) নামের এক মেয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রেমের অভিনয় করে এক যুবকের কাছ থেকে নগদ নাম্বার (01724398316) ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রথমে ঘটকের মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়ে দেখান। তারপর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন জায়গায় দেখা করে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে প্রেমের ফাঁদ পেতে অর্থ আদায়ই ছিল তার মূল কৌশল। টাকা পাঠানোর পরপরই ভুক্তভোগীকে ব্লক করে দেন তিনি, যেন আর কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়। এরা একা নয়, বরং একাধিক, গড়ে তুলেছেন প্রতারক নারী চক্র।
ভূক্তভোগী জুলফিকার আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি বিয়ে করতে সম্মত হইলে ঘটক নাসির আমাকে মেয়ে দেখান। মেয়ের নামঃ আর্ণিকা (তপাসু),পিতাঃ আমজাদ হোসেন, গ্রামঃ সিংপাড়া সালন্দর, বিন্দিকাটারমোড়।একপর্যায়ে মেয়ে পছন্দ হইলে,বিয়ের কথাবার্তা হয়।এরই মধ্যে আর্ণিকা (তপাসু) এর সাথে আমার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয়।এবং আমরা দুজনে বিভিন্ন জায়গায় দেখা করি ও ঘুরতে যাই।এক সময় আর্ণিকা (তপাসু) আমার কাছে স্মার্ট ফোন কিনে চাইলে আমি আর্ণিকা (তপাসু) কে ১৮,০০০ টাকা দিয়ে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেই।তারপর থেকে আমাদের প্রায় সবসময় যোগাযোগ হত।এবং সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছে থেকে প্রায় তিন লক্ষ্য টাকা নগদ একাউন্টের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে ঘটক নাসির উদ্দীন বলেন,আমি জুলফিকার আলীকে বিয়ের জন্য আর্ণিকা (তপাসু) কে দেখাই এবং একপর্যায়ে মেয়ে পছন্দ হলে,পারিবারিক ভাবে খোঁজখবর নেয় মেয়ে পক্ষ। খোঁজখবর নেওয়ার পরে বিয়ের বিষয়টি কেটে দেন মেয়ে পক্ষ। টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টাকার লেনদেন বিষয় আমি কিছু জানিনা।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আর্ণিকা (তপাসু) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি। উক্ত নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ও চক্র এই কৌশল ব্যবহার করছে। এরা নিজেদের সুন্দরী মেয়েদের ব্যবহার করে, উচ্চবিত্ত বা বিদেশফেরত তরুণদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সুযোগ বুঝে টাকা দাবি করে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করতে হলে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে আগে যাচাই করুন, হুট করে টাকা পাঠানো থেকে বিরত থাকুন এবং প্রতারকদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান: দেশের তরুণদের এই সর্বনাশা প্রতারণা থেকে রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রতারকদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যেন এ ধরনের অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়।