ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহতরা হলেন—সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদ-এর ফরিদপুর প্রতিনিধি জনি বিশ্বাস এবং দৈনিক ঢাকার সময়-এর ক্রাইম রিপোর্টার জান্নাতুল নাঈম। তাদের মধ্যে জনি বিশ্বাস গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেপাখোলা স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি ইটভাটার পেছনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে যান দুই সাংবাদিক। সেখানে একাধিক ভেকু ও ট্রাক দিয়ে মাটি কাটার দৃশ্য ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
এর পরপরই একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার সময় লাঠিসোটা ও ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কিছু সময় তাদের আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তনু ভট্টাচার্য ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স পৌঁছায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফরিদপুরের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আহত জনি বিশ্বাসের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অপর সাংবাদিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।