কুতুবপুর ইউনিয়ন-এ চেয়ারম্যান সেন্টুর দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাজুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সেবা নিতে এসে প্রতিদিনই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের দাবি, জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা ও টিসিবি কার্ডসহ বিভিন্ন সেবায় অযৌক্তিক দেরি হচ্ছে। পরিষদ ভবনে গিয়ে চেয়ারম্যানকে প্রায়ই পাওয়া যায় না, গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর ঝুলে থাকে দিনের পর দিন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন।
একাধিক বাসিন্দা জানান, সাধারণ একটি প্রত্যয়নপত্র তুলতে ৩–৪ বার আসতে হয়েছে। কাজ দ্রুত করতে চাইলে, আলাদা ব্যবস্থা’ করতে বলা হয়। কেউ কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি প্রকল্পের উপকারভোগী তালিকা প্রণয়নে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও রয়েছে। পরিষদের ভেতরের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও টেন্ডার ও উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজের মান নিম্নমানের হওয়া, বিল ভাউচার নিয়ে অসঙ্গতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব—এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। স্থানীয় নাগরিক কমিটির এক প্রতিনিধি বলেন, হিসাব-নিকাশ প্রকাশ্যে আনতে হবে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।
এদিকে চেয়ারম্যান সেন্টুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে সরাসরি পাওয়া যায়নি। পরিষদের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান বিভিন্ন প্রশাসনিক বৈঠক ও ব্যক্তিগত কারণে ব্যস্ত থাকেন। দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুশাসনকামী নাগরিকরা বলছেন, বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে জনসেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে—এমনটাই মত ইউনিয়ন বাসীর । অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।