নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ভূমি সেবা গ্রহণে কোনো ধরনের দালাল বা মাধ্যম ব্যবহার করা যাবে না; সেবা প্রত্যাশীকে সরাসরি অফিসে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে।
সোমবার (০৯ই মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞপ্তির বাস্তব প্রতিফলন। জায়গা-জমির পরিমাপ, নামজারি, মিসকেসসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিতে সাধারণ মানুষ সরাসরি ভূমি অফিসে উপস্থিত হচ্ছেন। কোনো দালাল ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে আবেদনগুলো।
৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নানা বাধা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে অবশেষে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা দেন তিনি। এর ফলে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে কোম্পানীগঞ্জে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।
এছাড়াও দায়িত্ব পালনকালে তিনি উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, মাটি ও বালু উত্তোলনসহ জনজীবনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। গত চার মাসে প্রায় ৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন, যা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
ভূমি অফিসে নামজারির দায়িত্বে থাকা নাজিম উদ্দিন জানান, “আগের মতো এখন আর দালালের খপ্পরে পড়ে সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানি হতে হচ্ছে না। নামজারি ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হচ্ছে। অফিসে এখন দালালমুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে, নেই বস্তাবন্দি ফাইল কিংবা কোনো অনিয়ম।”
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মাত্র চার মাসেই তিনি অফিসের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি একজন সাহসী নারী কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, নামজারি ও অন্যান্য সেবা সহজতর হয়েছে। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যেই কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন ছাড়াই নামজারির আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাটি ও বালু খেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি। সপ্তাহে একদিন মিসকেস শুনানির নিয়ম থাকলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে এসে সেবা গ্রহণ করছেন। গত চার মাস ধরে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ধরনের লেনদেন হচ্ছে না। যারা অবৈধ লেনদেন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারাই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে এতে আমার নৈতিক অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসার সুযোগ নেই।”
তিনি উপজেলার সকল সেবা প্রত্যাশীকে কোনো দালাল বা মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসে এসে সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।