রমজান মাস শুরু হলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি—এ চিত্র যেন বহু বছরের চেনা বাস্তবতা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রতি হালি (৪টি) লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। অথচ এই আখাউড়া উপজেলাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেবু উৎপাদন হয়। ফলে স্থানীয়দের প্রশ্ন—উৎপাদন এলাকায়ও কেন এমন চড়া দাম?
উৎপাদন এলাকায়ও বাড়তি দাম
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, রোজা উপলক্ষে লেবুর চাহিদা বাড়ে—ইফতারিতে শরবত ও বিভিন্ন খাবারে লেবুর ব্যবহার বেশি হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। ফলে উৎপাদন পর্যায়ে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও খুচরা বাজারে দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
একাধিক ক্রেতা জানান, “রমজান আসলেই বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার দিকে ঝুঁকছেন। প্রশাসনের তদারকি থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।”
সিন্ডিকেটের অভিযোগ
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্য—যেমন ছোলা, পেঁয়াজ, বেগুন ও খেজুরের দামও বাড়তির দিকে। ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়ছে। তবে ভোক্তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়ানোর কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে ভিন্ন চিত্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ও ভর্তুকি দেওয়া হয়। যেমন সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ রমজান উপলক্ষে সুপারশপগুলোতে বিশেষ ডিসকাউন্ট অফার দেখা যায়। সরকারও বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে ইফতার ও সেহরি প্রস্তুত করতে পারেন।
সমাধানের দাবি । আখাউড়ার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সিন্ডিকেট ভাঙার কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। উৎপাদনকারী কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্যমূল্যে পণ্য সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। কিন্তু বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। ভোক্তাদের প্রত্যাশা—এবার অন্তত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে রোজার মাসে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে।