দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবছরে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভিন্নধর্মী অনুভূতির কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জাতীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি মনে করেন, অতীতের দুই নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশার দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, গত ১৭ বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের মধ্যে যে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও অনাগ্রহ দেখা গিয়েছিল, এবারের নির্বাচনে তার চিত্র ভিন্ন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
তিনি আরও বলেন, আগের নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ও উৎসাহ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা অনেকেই জানান, তারা দীর্ঘদিন পর একটি অর্থবহ নির্বাচনী পরিবেশে অংশ নিতে পেরে সন্তুষ্ট।
অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কেন্দ্রে যেয়ে ভোট প্রদান করে আমি ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী। মনে হচ্ছে, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সের ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ ভোটাররা বলছেন, তারা পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছেন। প্রবীণ ভোটাররা আশা করছেন, তাদের ভোট দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে কেমন হবে দেশ? অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, দলের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশ একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তার মতে, ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দেশ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আধুনিক চিন্তাধারা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সবশেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে এই নির্বাচন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।