মাদারীপুর প্রতিনিধি: বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগে চাচা _ভাতিজাসহ ৩ জনের নামে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় আসামিরা হলেন ১।অখিল চন্দ্র দাস ২।সুমন চন্দ্র দাস ৩। অনুপ কুমার চন্দ্র দাস, উভয় পিঃ মৃত অমল কৃষ্ণ দাস, সাং খাঞ্জাপুর, থানা গৌরনদী _জেলা বরিশাল।
প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী তপন কুমার সরকার (৬০) মাদারীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে
ধারা [ ৪০৬] ৪২০]৪০৯ মানবপাচার অপরাধ ট্রাইবুন্যালে মামলা দায়ের করেছেন। ০১ জুলাই রবিবার এই মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় ভুক্তভোগী তার অভিযোগে বলেন, আসামিগণ ভিন্ন থানাধীন হলেও পার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দা হওয়ায়,একে ওপরের সুপরিচিত ও তাহারা খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তপন কুমার সরকারের ঔষধ ফার্মেসী দোকানে বসে বিদেশে পাঠানোর কথা জানায়,অখিল চন্দ্র দাস। তিনি ছাড়াও সেখানে অন্তত ১০/১২ জন আগ্রহীকে উপস্থিত ছিলেন,তার কথার উপর বিশ্বাস করে তপন কুমার সরকারের ছেলে তনয় সরকার কে ২২ /১০/২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দুপুর বেলা দোকানে এসে ৩ মাসের মধ্যে কানাডা পাঠানোর কথা বলে,২২,০০০০০ লাখ টাকা ও পাসপোর্ট নেয়, অখিল চন্দ্র দাস।
পরে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও তপন কুমার সরকারের ছেলে তনয় কুমার সরকার কে বিদেশ পাঠানোর আর কোনো খবর নাই। এরপর আজকাল বলে_, বলে এমন করে ১টি বছর অতিক্রম হলে, ভুক্তভোগী তপন কুমার সরকার _ অখিল চন্দ্র দাসের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করিলে। তিনি বলেন, আমি তোমার ছেলে তনয়কে বিদেশ নিতে পারিব না। তোমার টাকা ফেরত দিয়ে দিব। একথা শুনে তপন কুমার সরকার বলেন,যে কবে দিবেন আমার টাকা। তখন ঐ মানবপাচারকারী অখিল চন্দ্র দাস বলেন, ১ মাস পরে। এমন করে করে ৪/৫ মাস অতিবাহিত হয়ে যায় টাকা দিচ্ছে না। পরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান, মীর গোলাম ফারুক এর কার্যালয়ে ১/৪/২০২১ তারিখ, এক শালিস বৈঠক বসে সে-ই বৈঠক অখিল চন্দ্র দাস সহ তার ২ ভাই এবং ভুক্তভোগী তপন কুমার সরকার আরও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ৭,লাখ টাকা প্রধান করেন, অখিল চন্দ্র দাস। বাকি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য ১ মাস সময় নেয়। পরে ৩ বছর অতিবাহিত হয়ে যায় বাকি ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার খবর না-ই।
ভুক্তভোগী তপন কুমার সরকার বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ করে টাকা এনে দিয়েছি, প্রতি মাসে সে-ই টাকার কিস্তি দিতে হয় ব্যাংকে। মাসের টাকা মাসেই পরিশোধ করি অন্য দিকে আমার পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে আজ আমি হিমসিম খাচ্ছি। এমতাবস্থায় গত, ২/৬/২০২৪ তারিখ, কালকিনি উপজেলার ভূইরঘাটা বাসা স্ট্যান্ডের পাশে নূর_জেনারেল হাসপাতালে বসে বর্তমান সাবেক চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক সহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুনরায় আবার শালিস বৈঠক বসে অখিল চন্দ্র দাস ও তপন কুমার সরকার এর ২ পক্ষ নিয়ে। এসময় সকলের সামনে ১০০ টাকা মূল্যে ৩ টি স্টাম্পের উপর লিখিত ভাবে অঙ্গীকার করে ১৫ দিনের মধ্যে বাকি ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করবে বললেন, অখিল চন্দ্র দাস। এরপর ১৫ দিন অতিবাহিত হলে ও টাকা না দেওয়ায়। পাওনা টাকা চাইছে উপস্থিত সাক্ষীগণ কে সাথে নিয়ে অখিল চন্দ্র দাসের বসতবাড়িতে যায়, তপন কুমার সরকার। বাকি ১৫ লাখ পাওনা টাকা চাওয়া মাত্রই, টাকা দিতে অস্বীকার করেন,উক্ত আসামিগণ।
মামলায় অভিযুক্ত,১ নং আসামি অখিল চন্দ্র দাস বলেন, আমার নামে আদালত যে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে, তা সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট। আমার কাছে তপন কুমার সরকার কোনো টাকা পাবে না। আমার ভাতিজার কাছে ৭ লাখ টাকা পাইতা তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আমাকে ষড়যন্ত্রের জ্বালে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এছাড়াও ভুক্তভোগী তপন কুমার সরকার বলেন, টাকা চাইতে গেলেই। উল্টো মিথ্যা মামলা এবং আমাকে হত্যা ও গুম করার হুমকি দেন, অখিল চন্দ্র দাসসহ ২ ভাতিজা মিলে। তা-ই আদালতে মামলা দায়ের করেছি, পাওনা টাকা ফেরত পেতে ও ন্যায় বিচারের আসায়।