জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলি করা এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায়ের দিন ৪ মার্চ নির্ধারণ করেছে।
রোববার ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেল এই মামলার আদেশ ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন। মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ছাড়াও খিলগাঁও জোনের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান, সাবেক উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে আসামি করা হয়েছে; তাদের মধ্যে চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার রয়েছেন।
যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় রামপুরায় তৎকালীন সরকারের পুলিশ সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিরস্ত্র আমির হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। একই ঘটনায় আরও দুজন নিহত হন।
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এসব ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয় এবং সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ ও নথিপত্রে পাঁচ আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ দাখিল করেন এবং ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সংঘর্ষে পড়েন আমির হোসেন। পুলিশ গুলি শুরু করলে তিনি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, এতে তার দুই পায়ে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তিনি প্রাণে বেঁচে যান। একই দিনে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। ট্রাইব্যুনাল-১ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় এবং পরবর্তীতে ফর্মাল চার্জ দাখিল করা হয়।