আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় নির্বাচনী পরিবেশ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনের মোট ১৭৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান। উপজেলা ভিত্তিক তথ্য বলছে—
চকরিয়া: ১৩০টির মধ্যে ৭৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ পেকুয়া: ৫০টির মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ (কিছু প্রতিবেদনে ৪৭টির মধ্যে ২২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ২২টি গুরুত্বপূর্ণ)।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ? প্রশাসন জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী অবস্থান, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অতীতে নির্বাচনী সংঘাতের ইতিহাস বিবেচনায় এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। ফলে এসব এলাকায় সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা বেশি।
নিরাপত্তা জোরদার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় দ্বিগুণ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী টহলে থাকবে।
ভোটার ও কেন্দ্রের চিত্র, ভোটকেন্দ্র: ১৭৭,ভোটকক্ষ: ১০৬৭,মোট ভোটার: ৫,৩০,৮৬২,পুরুষ: ২,৮১,৪৭০
মহিলা: ২,৪৯,৩৯১,তৃতীয় লিঙ্গ: ১,পোস্টাল ব্যালট ভোটার: ৯,৬২৮,এদিকে,প্রার্থীর আহ্বান শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় ছিকলঘাট স্টেশনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত এক পথসভায় আব্দুল্লাহ আল ফারুক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন,“ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র পাহারায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
সভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত, ছাত্রশিবির এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অধিকসংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে ভোটকেন্দ্র পাহারার আহ্বানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের অনুমোদন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।