ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যমতে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে বিজয়নগর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিজয়নগর থানায় রুজুকৃত একটি ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানাধীন গোকর্ণঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার এমদাদুল হক মিলন প্রকাশ রিপন (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত একটি Apache RTR 160 CC মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ও লুণ্ঠিত বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ২টার মধ্যে বিজয়নগর থানাধীন ২নং চান্দুরা ইউনিয়নের পশারচাঁদ এলাকায় কামারবাড়ি সংলগ্ন ফুলতলী থেকে হাজীপুরগামী পাকা সড়কের ওপর সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় সশস্ত্র ডাকাত দল পথচারী ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজয়নগর থানায় একটি ডাকাতি মামলা রুজু করা হয়।
মামলা রুজুর পরপরই বিজয়নগর থানা পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে মাঠে নামে। পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত একটি গান করার বাঁশির ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগটির ভেতরে একটি সাউন্ড কার্ড প্রসেসর, বিদেশি বাঁশিসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে একটি Moto G31 মডেলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ সময় ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—সোহেল মিয়া (৩৫), পিতা- মোঃ রহিছ মিয়া, সাং- সাতগাঁও;শামীম মিয়া (৩২), পিতা- মোবারক হোসেন, সাং- আলা দাউদপুর;মামুন মিয়া (২৩), পিতা- মৃত সাহেব আলী, সাং- সাতগাঁও;ওলি মিয়া (২৩), পিতা- কাইয়ুম মিয়া, সাং- আলা দাউদপুর;মোঃ হানিফ প্রকাশ রুবেল (৩৯), পিতা- আব্দুল আউয়াল, সাং- সাতগাঁও;মোঃ জয়নাল (৪০), পিতা- অহিদ উল্লাহ, সাং- ইব্রাহিমপুর।গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার এমদাদুল হক মিলন প্রকাশ রিপন স্বীকার করেছে যে, তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় মোট ১২টি ডাকাতি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সর্দারের পরিচয়—এমদাদুল হক মিলন প্রকাশ রিপন (৩৮),পিতা- মোঃ জাহের মিয়া,গ্রাম- চানপুর,
থানা- বিজয়নগর,জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।বিজয়নগর থানা পুলিশ জানায়, ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।