ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম আখাউড়া–হালা জোড়া খাল দীর্ঘদিনের অবহেলায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। খালটি আখাউড়া ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে আখাউড়া শহর অতিক্রম করে হালা জোড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। একসময় এই খাল দিয়েই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশন হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খনন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে খালটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের বিভিন্ন স্থানে পলি জমে নাব্যতা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। কোথাও কোথাও দখল ও ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দারা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীবাহী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন জমে থাকা পানিতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রী, মেয়র ও জনপ্রতিনিধিরা খালটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে এলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। একাধিকবার খাল খনন ও সংস্কারের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও রহস্যজনক কারণে কাজ শুরু হয়নি, আবার কোথাও কোথাও অল্প কাজ শুরু করে মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেছে।
আখাউড়া শহর ও মসজিদপাড়া এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এই অবস্থায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, এই খালটি সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, অবিলম্বে আখাউড়া–হালা জোড়া খালটি খনন, দখলমুক্ত ও সংস্কার করে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে তারা সম্মানিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আখাউড়া শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, দৃশ্যমান ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণই সময়ের দাবি।