আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন ২৭৪ লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। প্রতিদ্বন্ধীতাকারী প্রার্থীরা হলেন-বিএনপি জোটের প্রার্থী সদ্য বিএনপিতে যোগদানকারী সাবেক বিএলডিপির চেয়ারম্যান মোঃ শাহাদাত হোসেন সেলিম (ধানের শীষ), জামাত জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ন-আহবায়ক মাহবুব আলম (শাপলা কলি), ইসলামী আন্দোলনের জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারী (হাতপাখা), জাতীয় পাটির মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ (লাঙ্গল), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোঃ আলমগীর হোসাইন(সিংহ), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মোঃ কাউছার আলম (ট্রাক) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মোঃ বিল্লাল হোসেন(মই)।
নির্বাচনী মাঠ ঘুরে রাজনীতিকবিদ ও ভোটারদের সাথে কথা জানা যায়, এ নির্বাচনে বিএনপি জোট, জামায়াত জোট ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিএনপি জোটের প্রার্থীকে সবচাইতে ফুরফুরে মেজাজে দেখা যায়, তিনি নেচে-গেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আসনটি বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত। এ আসনে বিগত সংসদ নির্বাচন গুলোতে বিএনপি বিপুল ভোটের ব্যাবধানে ৫ বার জয় লাভ করে।
জামায়াত জোটের প্রার্থীর নিজ দলের (এনসিপি)অবস্থান খুবই দুর্বল। তিনি জামাতের কর্মী, সমর্থক ও ইমেজকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে সক্রীয় রয়েছে। বর্তমানে এ আসনে জামায়াতে রাজনীতিক কর্মকান্ডে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ২ বার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন, একবার দ্বিতীয় ও আরেকবার চতূর্থ হয়।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পক্ষে দলীয় একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। পাশাপাশি বিগত সময় প্রার্থীর সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডে ইমেজও ভোট বৃদ্ধি পাবে। তিনি কাওমী ঘরনার আলেমদেরকে সামনে রেখে প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যন্যা প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা, গনসংযোগ তেমন দেখা যায় না। ইসলামী আন্দোলন নবম,এগারো ও বারতম সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন,প্রতিবারই তৃতীয় স্থানে ছিল।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানান যায়, অত্র আসনে ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন রয়েছে। এ আসনে ভোটারের সংখ্যা- ২লাখ ৮১ হাজার ৩ শত ১ জন। ভোট কেন্দ্র- ৮৫টি। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী ৭ জন। দ্বিতীয়,পঞ্চম, ষষ্ট, অষ্টম, নবম সংসদে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়। প্রথম, এগারো ও বারতম সংসদে আওয়ামীলীগের প্রাথী, তৃতীয় ও চতূর্থ সংসদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ,সপ্তম সংসদে স্বতন্ত্র এবং দশম সংসদে তরিকত ফেডারেশনের প্রাথী নির্বাচিত হয়। জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধানের প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। আর সব কয়টি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ,বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে পরস্পর প্রতিদ্বন্ধীতা হয়।
অত্র আসনের বাসিন্দাদের মধ্যে রিকশা চালক, গৃহিনী, দিনমজুর, কৃষক,মুচি, সবজি বিক্রেতা ও চা-দোকানদার এমন পেশার ৩০জন সাধারন ভোটারের কথা হয়, তাদের মধ্যে ১১ জন ধানের শীষ প্রতিকে, ৮জন দাড়িপাল্লায়, ৩জন হাতপাখা, ১জন লাঙ্গল প্রতিকে সরাসরি ভোট দেওয়ার কথা বলেন। ৫জন ভোট কাকে দিবেন বলেননি। ২ জন কাউকে ভোট দিবেন না বলে জানান। এর মধ্যে জায়াতের প্রার্থী ও দাঁড়িপাল্লা প্রতিক না থাকায়, ২ জন ধানের শীষ, ২ জন হাতপাখা ও ৫ জন শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিবেন বলে জানান।
প্রবীন রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, সাংবাদিক এমন ৫ জনের নিকট থেকে নির্বাচন নিয়ে মতামত নেওয়া হয়, তাঁদের দেওয়া মতামতে বলেন- বিতর্কিত ১০,১১ ও ১২তম সংসদ নির্বাচনকে বাদ দিলে, বিগত নির্বাচন গুলোতে এই আসনে বিএনপি বেশী জয় ভাল করছে। বর্তমানে দলের অভ্যান্তরিন দ্বন্ধ নেই,সবাই ঐক্য বদ্ধভাবে কাজ করছেন। এতে বিএনপি এ আসনে এবারো জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
৫ আগস্ট পরবর্তিতে প্রায় ১ বছর আগে জামায়াত প্রার্থী ঘোষনা করেন। এবং টেন্ডার, ইজারা,চাঁদাবাজি,মামলা-হামলা এ সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে তাঁরা ব্যাপকভাবে দলীয় কর্মকান্ড ও ইসলামের অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। কিন্তু জামাতের দলীয় প্রার্থী নাই, জোটের পক্ষে এনসিপির যাকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তাঁর পিতা বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন, তাঁর ছোট ভাই সাবেক তথ্য উপদেস্টা মাহফুজ আলমকে নির্বাচনে প্রচার-প্রচারনায় দেখা যাচ্ছে না। তাই রাজনীতিক অঙ্গনের এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এতে জয় ভাল করাটা কঠিন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীর ব্যক্তি আলেম ওলামাদের নিয়ে ভোটে থাকায় আছেন। দলটির একটি দলীয় ভোট ব্যাংক রয়েছে, এ ছাড়া প্রাথীর দীর্ঘদিন সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডের কারনে ব্যক্তি ইমেজে কিছু ভোট রয়েছে। এতে ভোটের মাঠে ইসলামী আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে আসবেন। এ ছাড়া আওয়ামীলীগ ও হিন্দুদের ভোট এককভাবে কেউ পাবে না। শেষ পর্যন্ত বিএনপি, জামাত জোটের এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারনা করছেন তাঁরা।
১০ দলীয় জোট প্রার্থী মাহবুব আলম জানান- ইনশআল্লাহ ভোটের মাঠে আমার অবস্থা খুব ভালো, আমি আশাবাদী জোটের প্রার্থী হিসেবে আমি জয়ী হবো, রামগঞ্জের মানুষ আমাকে নির্বাচিত করবে। কারন, রামগঞ্জ অর্থনৈতিকভাবে একটি সমৃদ্ধ হলেও অবকাঠামো উন্নয়নে, শিক্ষা ব্যবস্থায়, চিকিৎসা ব্যবস্থায় ও সামাজিক সুরক্ষার দিক থেকে খুবই দুর্বল। এই অবস্থার কারন হচ্ছে রাজনীতিক দলগুলো, তারা বিগত সময় ক্ষমতায় থেকেও এ কাজ গুলো করেনি। এ ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী যিনি প্রার্থী ছিলেন, তিনিও রামগঞ্জে প্রত্যেটি গ্রামে, প্রত্যেটি বাড়িতে পোঁছেছেন, এবং নতুন রাজনীতি, নতুন চিন্তার জন্য মানুষকে সংগঠিত করেছেন। আমিও প্রায় রামগঞ্জের প্রত্যেকটি গ্রামে, প্রত্যেটি ওয়ার্ডে গিয়েছি, মানুষের সাথে গিয়ে মিশেছি, সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি। তরুনরাসহ ৫ আগস্ট পর মানুষ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তা চেতনায়, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে এসে নতুন আঙ্গিকে রাজনীতি করতে চায়, নেতৃত্ব ও শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। এ জন্য আমি দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি তরুনসহ রামগঞ্জের মানুষ আমাকে বেচে নিবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারি জানান- আমি রামগঞ্জের প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক বাড়িতে গিয়েছি, সবার সাথে মিশেছি, দীর্ঘদিন যাবত রামগঞ্জবাসীর সুখে দুখে কাছে থাকার চেষ্টা করছি, যুব সমাজকে বেকারমুক্ত করতে চেষ্টা করেছি। এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার যুবকে ফ্রিতে সেলাই, ড্রাইভিং ও আইইএলটিএস প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ইনশআল্লাহ মানুষের মাঝে সাঁড়া রয়েছে। আমি আশাবাদী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জবাসী হাতপাখা প্রতিকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করবে।
বিএনপির প্রার্থী মো: শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন-রামগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয় করতে অত্যান্ত শক্তভাবে কাজ করছেনে। ইতিমধ্যে একটি গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমি ধানের শীষে প্রার্থী হিসেবে, রামগঞ্জের আনাচে কানাচে গিয়েছি, ধানের শীষ জন্য ভোট চেয়েছি। ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ইনশআল্লাহ, আমি নির্বাচিত হলে একটি সুন্দর, একটি বাসযোগ্য, একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত , দূর্নীতি মুক্ত রামগঞ্জ উপহার দিব।