মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীতে ইজারা বহির্ভূত অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলেও জেলা প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও নদীতীরবর্তী মানুষদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, পয়লা ইউনিয়নের সিধুনগর, চর বালজুরি ও কুস্তা এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের নিয়ন্ত্রণে দিনের পর দিন ২৪ ঘণ্টা অবৈধ ড্রেজার চলছেই। সংবাদ প্রকাশের পরও এসব ড্রেজারের কার্যক্রম একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে নদীভাঙন দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শত শত একর ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু সংবাদ প্রকাশ ও লিখিত অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।
বসতভিটা হারানো এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ঘরবাড়ি চোখের সামনে নদীতে চলে গেল। আমরা প্রশাসনের কাছে গিয়েছি, সাংবাদিকদের জানিয়েছি, পত্রিকায় খবরও হয়েছে—কিন্তু ড্রেজার বন্ধ হয়নি। তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের নীরবতা কিংবা সম্ভাব্য যোগসাজশের কারণেই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে বলছেন— “রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ করেও কোনো লাভ হয় না।”
তাঁদের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়—সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্যোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সচেতন মহল বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবৈধ ড্রেজিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত ঘুষখোর ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, জাতীয় সম্পদ রক্ষা ও নদী বাঁচাতে হলে কেবল সংবাদ প্রকাশ নয়—দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান, স্থায়ী নদী রক্ষা পরিকল্পনা এবং দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।