তীব্র শীতে খুলনা সহ আশপাশের জেলাগুলো ঠান্ডাজনিত এবং পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। গত তিন চার দিনে আক্রান্ত এসব শিশুদের মধ্যে ১৯৫ জনকে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্হিবিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৪০০ জনকে। হাসপাতাল সুত্রে জানাগেছে, গত তিন চার দিনে শৈত্য প্রবাহের কারনে বিভাগের ১০ জেলা এলাকার শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে জর, সর্দি- কাশি কোল্ড ডায়েরিয়া, পেটের পীড়া এবং নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন রোগে। এসব রোগী আনা হচ্ছে খুলনা শিশু হাসপাতালে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ১৯৫ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরো এক হাজার চারশ, শিশুকে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কথা হয় হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসা বাগেরহাটের মিনতি বেগমের সাথে। তার তিন বছরের শিশু সন্তান হায়দার নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ায় এ হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন গত তিন চার দিন ধরে শীত জেকে বসেছে। বাড়িতে শিশুরা খুব দুষ্টুমি করে। ঠান্ডায় পায়ে স্যান্ডেল না দিয়ে খালি পায়ে ঘরের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। রাতে গায়ে কম্বল রাখে না। গত রবিবার হঠাৎ জর কাশি শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলেও কমেনি। পরে খুলনায় এসে শিশু চিকিৎসক দেখিয়ে বিভিন্ন পরিক্ষার মাধ্যমে জানতে পারলাম হায়দার নিউমোনিয়া আক্রান্ত। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। প্রথমে এখানে সিট পেতে সমস্যা হলেও পরবর্তীতে পাওয়া গেছে। যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিফাতের মা আরজু বেগম জানান গত বৃহস্পতিবার রাতে কোল্ড ডায়রিয়া আক্তান্ত হয়।ঔই রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কিন্তু সেখানে তার চিকিৎসার উন্নতি না হওয়ায় গত শনিবার সকালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসলে এখানকার চিকিৎসক তাকে ভর্তি করানোর কথা বলে। ছেলের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। খুলনা শিশু হাসপাতালের বর্হিবিভাগে গিয়ে দেখাযায়, সেখানে ৫০ এর উপরে শিশু নিয়ে বসে আছেন মায়েরা তীব্র শীতে। এসব শিশুরা ঠান্ডা বাহিত রোগ নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডালিয়া বেগম বলেন, গত তিন চার দিনে খুলনায় প্রচন্ড শীত পড়েছে। এসময় হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪০০ শিশু। ঠান্ডা জনিত ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। শীত এভাবে বাড়তে থাকলে রোগী সামল দেওয়া অনেকটা দুরহ হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মাজহারুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের কেবিনের সংখ্যা ৩৬ টি এবং সাধারণ বেডের সংখ্যা ২৭০ টি। রোগীতে পরিপূর্ণ রয়েছে হাসপাতালটি। বহিবিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জর, সর্দি- কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছে। এই কর্মকর্তা বলেন, শয্যা যদি খালি থাকে তাহলে রোগী ভর্তি করা হয়। আর খালি না থাকলে তাদের সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুলোতে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। যশোর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জ থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীরা এখানে আসছে বলেও তিনি জানান। শিশুদের সুরক্ষার ব্যাপারে তিনি বলেন, এই শীতে ঘরের ভেতর গরম আবহাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শিশুরা যাতে কোন রকমের ঠান্ডা লাগাতে না পারে।