কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় রামু থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া এর নেতৃত্বে রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।পুলিশ জি ফোর রাইফেলের ২ রাউন্ড গুলি সহ ছয়জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কে গ্রেপ্তার করেছে।
কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানায়, গত ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে রামু থানাধীন খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পাইন বাগান এলাকায়, রামু–মরিচ্যা সড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশা তল্লাশি করা হলে যাত্রী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোঃ আলম (৩৫)–এর পকেট থেকে জি–০৪ রাইফেলের ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় মোঃ আলমসহ গাড়িতে থাকা আরও ৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক একটি সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোঃ আলম (৩৫), এফসিএন নং–২০৬৬১০, পিতা–শাহ আলম, মাতা–নুর নাহার, সাং–ক্যাম্প নং–১৩, ব্লক নং–ই–০২, থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–উখিয়া, জেলা–কক্সবাজার। এনায়েতুর রহমান (২০), এফসিএন নং–১৫৩০৭৯, পিতা–বদর, মাতা–তাহেরা বেগম, সাং–ক্যাম্প নং–১ পূর্ব, ব্লক নং–ডি–১১, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–উখিয়া, জেলা–কক্সবাজার। নবী হোছন (৪৪), এফসিএন নং–১৫০৫১২, পিতা–শামশু আলম, মাতা–নুর বেগম, সাং–ক্যাম্প নং–১ পূর্ব, ব্লক নং–ই–০২, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–উখিয়া, জেলা–কক্সবাজার। মোঃ রফিক (৩৭), এফসিএন নং–১৫৩৮৮৮, পিতা–আবু ছিদ্দিক, মাতা–শমসুদা বেগম, সাং–ক্যাম্প নং–১ পূর্ব, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–উখিয়া, জেলা–কক্সবাজার।
মোঃ আমিন (২৫), এফসিএন নং–৫০২৫৭৩, পিতা–জাহেদ হোছন, মাতা–জেবেকুন্নাহার, সাং–ক্যাম্প নং–৬, ব্লক নং–ডি–২, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–উখিয়া, জেলা–কক্সবাজার। খায়ের হোছন (৩৭), এফসিএন নং–২৫৮৪৭৯, পিতা–মৃত আমান উল্লাহ, মাতা–মৃত মোস্তফা বেগম, সাং–ক্যাম্প নং–২৪ এলএমএস, ব্লক নং–ডি, পুরাতন লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প, থানা–টেকনাফ, জেলা–কক্সবাজার। পুলিশ জানায়, অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে জি–০৪ রাইফেলের ২ রাউন্ড গুলি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ জানায়, ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে রামু থানা পুলিশ এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, রামু থানায় অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) হিসাবে যোগদানের পর থেকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কে পাচারের উদ্দেশ্যে নানা ধরনের অস্ত্রের সরঞ্জাম পোষাকাদি সহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস পত্র জব্দ করেছে রামু থানা পুলিশ। একের পর এক শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক করবারি, সহ কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে রামু উপজেলার সর্ব সাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এসেছে।