আশুলিয়ায় পারভেজ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একাধিক ভেকু (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলো ও গভীর রাত—দুই সময়েই চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম। ফলে ধ্বংসের মুখে পড়েছে এলাকার ফসলি জমি ও পরিবেশের ভারসাম্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পারভেজ ও তার সহযোগীরা ভেকু দিয়ে কৃষি জমির উপরিভাগের মূল্যবান মাটি কেটে ট্রাকযোগে সরিয়ে নিচ্ছে। এই মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন ভরাট প্রকল্পে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মাটি বিক্রি হলেও কেউ যেন দেখার নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “ভেকুর শব্দে রাতভর ঘুমানো যায় না। জমির মাটি কেটে নিয়ে গেলে চাষাবাদ শেষ। প্রতিবাদ করতে গেলে ভয় দেখানো হয়।”
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো এখন চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জমির স্বাভাবিক স্তর নষ্ট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভবিষ্যতে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও কৃষি জমি সুরক্ষা আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ভেকু দিয়ে মাটি কাটা সরাসরি দণ্ডনীয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত বড় পরিসরে প্রকাশ্যে মাটি কাটা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড কি কোনো প্রভাবশালী ছত্রছায়ায় চলছে?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পারভেজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভেকু জব্দ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আশুলিয়ার কৃষি ও পরিবেশ যে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন তারা।