৭২ ঘন্টার অধিক সময় পার হওয়ার পর আদালত চত্বরে প্রধান ফটকের সামনে সড়কে হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন হত্যার ঘটনায় দুই পরিবারের কেউই থানায় মামলা করেনি। অবশেষে পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক ( এসআই) আব্দুল হাই বলেন, জোড়া হত্যার ঘটনায় দুই পরিবারের কেউ মামলা না করায় খুলনা থানার এস আই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন”। মামলাটি তদন্ত করবেন এস আই মো: মিয়ারব হোসেন। এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার বিবরন দিয়ে তিনি বলেন, ” ৩০ নভেম্বর হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন আদালতে মামলা হাজিরা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সার্কিট হাউজ মেইনগেটের বিপরীতে জেলা দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে পুর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত পরিচয়ে ১৫/১৬ জন দুর্বৃত্ত তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং ধারালো চা- পাতি দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি মোটরসাইকেল, চা- পাতি, গুলির কার্তুজ ও ফায়ারকৃত কার্তুজের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে। তিনি আরো বলেন, ” দুর্বৃত্তের হাতে নিহত হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সহযোগী। এই জোড়া হত্যার সঙ্গে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ( ওরফে গ্রেনেড বাবু)র সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে৷ হত্যাকান্ডের ঘটনায় চারটি কারন সামনে রেখে পুলিশ তদন্ত করছে “। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, ” জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ থানায় কোন মামলা দায়ের করেনি। ৭২ ঘন্টার অধিক সময় অপেক্ষা করার পর উর্ধবতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার করেই এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে”। এদিকে নিহত হাসিব ও রাজনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানাগেছে, পারিবারিক নিরাপত্তা জনিত কারনে তারা থানায় মামলা দায়ের করেননি। এ ঘটনায় নিহত রাজনের বাবা আফজাল শেখ জানান ছেলে হত্যার বিচার আল্লাহ আদালতে দিয়েছি।নিহত হাসিবের ভাই সুমন হাওলাদার সংবাদ সন্মেলনে বলেন , আমার ভাইয়ের দুই শিশুকন্যার নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা মামলায় যাবো না। এদিকে পুলিশ এ মামলায় সন্দেহভাজন রিপন শেখ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু তার নামে মামলা না থাকায় ৫৪ ধারায় পুলিশ আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ রিপন শেখকে গ্রেফতার করায় নিহত হাসিবের হাওলাদারের ভাই সুমন হাওলাদার জানিয়েছেন তিনি আমার প্রতিবেশী। তাকে হয়রানি করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।