পঞ্জিকা হিসেবে শীত মৌসুম আসতে মাসখনেক বাকি। তার পরও শীতল পরশ নিয়ে গুটি গুটি পায়ে শীত এসেছে পীর খানজাহানআলী ( রহঃ) এর খুলনায়। দুর্বা ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা। শিবসা, পশুর, কপোতাক্ষ, রুপসা আর ভৈরব নদ কুয়াশার স্বপ্ন চাদর মুড়ি দিয়েছে। রাতের চাদে সাদা জোৎস্না। দিনে মিঠে কড়া রোদ। নিত্য সঙ্গি হয়ে উঠেছে শীত বস্ত্র। সুদুর নওগাঁ থেকে উলের নানা রঙের চাদর ও কম্বল এসেছে নগরীর শীতের বাজারে। এ পন্য তৈরি হয়েছে বগুড়ায়। গেল বছর গনঅভ্যুত্থানের কারনে শীতের বাজার ছিল মন্দা ভাব। এবার সে অবস্থার উল্টো। চাঙ্গা হয়েছে লেডিস চাদর ও কম্বলের বাজার। দাম গড়ে তিন,শ টাকার নিচে। ক্রেতার ভিড় অনেক। গেল বছর জুলাই – আগষ্টে দেশজুড়ে গনঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। আগষ্ট পরবর্তী অর্থনীতি ছিল অস্থিতিশীল। সর্বত্র চলে মন্দাভাব। নিশ্চিত নিরাপত্তা পায়নি উওরের ব্যবসায়ীরা। নতুন সরকারের আমলে প্রথম দিকে বড় ধাক্কা খায় বিক্রেতারা। বড় পুঁজি বিনিয়োগ করেও লাভের মুখ দেখতে পায়নি খুদে ব্যবসায়ীরা। উওরের চাদর ব্যবসায়ীরা সেই যেমন পাকিস্তান আমলের কাবুলিওয়ালাদের মত। তবে তাদের চরিত্র দুধরনের। কাবুলিওয়ালা বাকি রাখত,পরের বছর এসে পাওনা আদায় করত। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে উওরের ব্যবসায়ীদের বিকিকিনি নগদে। গেল বছর তারা লোকসান দেয়। এদের একজন মোঃ আব্দুর রহিম। ৩৫ বছর যাবৎ শীত মৌসুমে খুলনা নগরীতে এসে চাদর ও কম্বল বিক্রি করছে। বাড়ি নওগা জেলার চকবিলকি গ্রামে। থাকেন পুরোনো রেল স্টেশনে মাসিক ২২,শ টাকার ভাড়া বাড়িতে। এবার পুজি বিনিয়োগ করেছে তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। কেসিসি মার্কেটের সামনে ভ্যানের তার ভ্রাম্যমান বানিজ্য। সকাল থেকে রাত অবধি চলে বিকিকিনি। খদ্দরের চাঁদর প্রতিটি চার,শ টাকা, লেডিস চাঁদর ও কম্বলের দর আড়াই,শ টাকা। ছুটির দিন বাদে ১৫-২০ টি পন্য বিক্রি হয়। রাতে লাভের টাকা পৌনে সাড়ে চার,শ থেকে পাচ,শ। মৌসুমের শুরু থেকেই হাসি মুখ, গেল বারে মুখ ছিল বেজার। তার মত আরো দুজন ব্যবসায়ী একই জেলার ইলসাবাড়ি গ্রামের আব্দুস সামাদ সর্দার ও মাসুদ রানা। যৌথ পুঁজির ব্যবসা। গেল শীত মৌসুমে চার মাসে লাভের অংশ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা গুনে পকেটে করে। তারা বলেন এবারে রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই। ঈদের আগে বিকিকিনি শেষ করে নওগাঁর ট্রেন ধরে স্বজনদের কাছে পৌছাবে। আশাবাদী লাভের অংক বাড়বে। তরুন ব্যবসায়ী মোঃ রুহেল। স্নাতক সন্মান শ্রেনীর ছাত্র। একই জেলার শৈলগাতি গ্রামে তার আদি নিবাস। এই প্রথমবারের মত ব্যবসায়ী হিসেবে খুলনা আসা। লাভলোকসানের অভিজ্ঞতা নেই। ক্রেতাদের ভিড়ে তার মুখেও হাসি। সব- বয়সী নারী- পুরুষ ভীড় করে সকাল সন্ধ্যা। ডিসেম্বরের প্রথমে ভিড় আরো বাড়বে বলে আশাবাদী এ নতুন ব্যবসায়ী।