জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হলেও ডিলারদের গাফিলতি জন্য সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।সোমবার সকাল থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান।
জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলায় টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে টিসিবি কর্তৃপক্ষ।এর আওতায় ডোয়াইল ইউনিয়নের মাজালিয়া বাজারে সাফুয়ান এন্টারপ্রাইজ,কামরাবাদ ইউনিয়নে আকন্দ এন্টারপ্রাইজ,পোগলদিঘা কলেজ মাঠে মিলন এন্টারপ্রাইজ।
তবে অভিযোগ উঠেছে—ডিলারদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, লাইনে শৃঙ্খলা না রাখা, ক্রেতাদের তালিকা যাচাই না করা এবং সময়মতো পণ্য না আনায় বেশির ভাগ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।পণ্য বিক্রি শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫ শতাধিক প্যাকেজ শেষ হয়ে যায়।সরবরাহ কম থাকলেও ডিলাররা আগেই তা ঘোষণা না করায় লাইনে দাঁড়ানো মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়,লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করছেন—ডিলাররা সময়মতো ট্রাক না আনা,পণ্য কম আনা ও বিতরণে অনিয়ম করছেন।
লাইনে দাঁড়ানো ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান চোখের জল চেপে বলেন—দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিসিবির মাল পেলাম না।ডিলাররা যদি ঠিকমতো কাজ করতো, তাহলে এত কষ্ট করতে হতো না।
স্থানীয়দের অভিযোগ—ডিলাররা পণ্য নিয়ে এলেও সঠিকভাবে বিতরণ না করা, স্বজনপ্রীতি,গোপনে পণ্য সরিয়ে ফেলা এবং লাইনে থাকা মানুষের প্রতি অবহেলা দেখানোর কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ডিলার রেদোয়ান হাসান সুমন ও আসাদুজ্জামান মিলন জানান—চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় আমরা সমস্যায় পড়ছি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি—ডিলারদের নিজেদের গাফিলতি ও এলোমেলো ব্যবস্থাপনাই মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
নিম্ন আয়ের মানুষের দাবি—টিসিবির বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ডিলারদের মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে প্রকৃত মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্য পেতে পারেন।