পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার ঘূর্ণিঝড় দানা,র প্রভাবে গত তিন দিনের দমকা হাওয়াসহ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফলে, ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় কাঁচা পাকা ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে আছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর ) সরজমিনে আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা-পাকা ধানের ক্ষেত মাটিতে নুয়ে পড়ার চিত্র।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে কখনো বৃষ্টি কখনো খরার কারনে, আমাদের বাড়তি খরচ দিয়ে ধানের চারা রোপন করতে হয়েছে। এমন অবস্থায় সার বিষ সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ এবং পরিচর্যার মাধ্যমে ফসলের বাম্পার ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু সাড়া দেশের ন্যায় পঞ্চগড়ে “দানার” প্রভাবে ধান গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে কোথাও কোথাও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ফসল, যার ফলে অভাবনীয় ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, ১৬ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৮% ক্ষতি সাধন হয়েছে। ৫৪ হেক্টর জমির ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে । বিশেষ ক্ষতি সাধন হয়েছে, ৬ হেক্টর জমির আগাম ধানের জাতের, যা কর্তনকৃত অবস্থায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলায় শাকসবজির আবাদ হয়েছে ১৩৫ হেক্টর জমিতে, যার আংশিক ক্ষতির পরিমাণ- ২২ হেক্টর জমির শাকসবজি। আগাম আলুর চাষ হয়েছে ৪.৫ হেক্টর জমিতে, যার ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলার তোড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক শ্রী সটলু বর্মন বলেন, আমার তিন একর জমিতে আমন ধান লাগানো রয়েছে এবং ইতিমধ্যে কিছু ধান পাকা শুরু হয়েছে কিন্তু ঝড় বৃষ্টির প্রভাবে ধানের ৩০-৪০ শতাংশ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ধান গাছ হেলে পড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধান গাছ “লজিং আপ” করলে কিছুটা ফসলের ক্ষতি কম হবে ।