বাংলাদেশের তৃণমূল ও মফস্বল সাংবাদিক সমাজের অধিকার, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) পথচলার ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় এবং ২০০৮ সালের ২০ এপ্রিল সরকারিভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির মাধ্যমে আরজেএফ জাতীয় পরিসরে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে আরজেএফ-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এস. এম. জহিরুল ইসলাম। আজ ২৮ অক্টোবর ২০২৫, এই দিনে সংগঠনের বর্তমান কার্যকরী কমিটির দুই বছর পূর্ণ হলো। এ উপলক্ষে আরজেএফ পরিবারে বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা আনন্দ ও গর্বের সাথে দিনটি উদযাপন করছেন।
এই দিনটি উপলক্ষে আরজেএফ ঢাকা জেলার সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সকল সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,
“আরজেএফ শুধুমাত্র একটি সংগঠন নয়, এটি তৃণমূল সাংবাদিকদের স্বপ্ন, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক আলোকিত যাত্রা। প্রতিষ্ঠা থেকে আজ পর্যন্ত আরজেএফ পরিবার যে ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আমাকে এবং আমাদের সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে—তা সত্যিই অনন্য। আমি বিশ্বাস করি, আরজেএফ আগামী দিনে দেশের সাংবাদিক সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“তৃণমূল সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও নির্যাতিত। তাদের পেশাগত সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আরজেএফ-এর মূল লক্ষ্য। আমি একজন সহ-সভাপতি হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—আরজেএফ-এর পতাকা তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরতে আমি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”
আরজেএফ-এর অর্জনসমূহ
দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে উঠেছে।
১০১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে গঠিত।
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি), জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটসহ সরকারি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় আরজেএফ ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার সাংবাদিককে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে।
‘আরজেএফ ভয়েস’ নামে নিয়মিত প্রকাশিত বিশেষ প্রকাশনা ইতোমধ্যে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সংগঠনটি এ পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুদান ছাড়াই শুধুমাত্র সদস্যদের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নেতৃবৃন্দ।
শেষে সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সকল সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন,
“আরজেএফ আজ দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মাঝে একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমি সবার দোয়া, ভালোবাসা ও ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করছি।”