সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত মাষ্টাররোল কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, ন্যায্য বেতন-ভাতা প্রদান এবং সাম্প্রতিক “সাময়িক শ্রমিক নীতিমালা-২০২৫” বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং-বি-১৫৯২)।
আজ সোমবার ২৭ অক্টোবর ২০২৫ সংগঠনটির পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টার নিকট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে সওজ অধিদপ্তরের অধীনে মাস্টাররোল ভিত্তিক কর্মচারীরা দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও তারা এখনো নিয়মিত চাকরি ও পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
সংগঠনটির সভাপতি শ্রী মহিনী বর্মন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রব্বানী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রণীত “সাময়িক শ্রমিক নীতিমালা-২০২৫” শ্রমিকদের স্বার্থ পরিপন্থী। উক্ত নীতিমালায় মাসে ২২ দিনের বেশি হাজিরা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব শ্রমিকদের জীবিকা ও কর্মস্থলের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে শ্রমিক সমাজে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্মারকলিপিতে সাতটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ২৭ মামলায় অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের প্রথম যোগদানের তারিখ হতে পেনশন নীতিমালা চূড়ান্ত করা;
২. ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর সকল কর্মচারীর দ্রুত স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতি প্রদান;
৩. মাষ্টাররোল কর্মচারীদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তি;
৪. ‘৩২১১১০৪-আনুষঙ্গিক প্রতিষ্ঠান’ কোড হতে মাসিক ভিত্তিতে বেতন প্রদানের ব্যবস্থা;
৫. শ্রমিক নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করা;
৬. ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন; এবং
৭. উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ প্রণয়ন ও প্রকল্প হস্তান্তরের পর রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগঠনটি অভিযোগ করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ২৭ মামলায় অন্তর্ভুক্ত কর্মচারীদের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও ৭ মামলার বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। তবে তারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান বলে জানান।