ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কলেজছাত্র জহিরুল ইসলাম মিঠু (২৪) হত্যা মামলায় দুই সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ জেলার অধিকতর তদন্তের ভিত্তিতে এই রায় প্রদান করা হয়।
২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলার পাটবাজার কালিপুর পূর্ব লাইনে অবস্থিত টিপু সুলতান খান পাঠান এর মালিকানাধীন ‘টিপু সুলতান জুয়েলার্স’ দোকানে স্বর্ণের ব্যবসা নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক ৫টা ৫৬ মিনিটে আসামী এলবার্ট ডেভিট সেন্টু (৪০), টিপু সুলতান জুয়েলার্সে ১টি স্বর্ণের চেইন ও ২টি স্বর্ণের আংটি বিক্রির জন্য আসেন। স্বর্ণের মান অনুযায়ী দাম ৬৫ হাজার নির্ধারণ নিয়ে সেন্টু এবং জুয়েলার্স মালিক টিপুর মধ্যে তর্ক শুরু হয়। এতে সেন্টু উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে তার ভাই এলবার্ট ডেভিট রকিকে (২৫) ফোন দেন।
একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২১ মিনিটে আসামী এলবার্ট ডেভিট রকি, সেন্টু এবং একরামুল হোসেন মামুনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন লোক পূর্বপরিকল্পিতভাবে টিপুর দোকানে এসে পুনরায় স্বর্ণালংকারের দর-দাম নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু করে।
এই সময় বাদী মো: মোখলেছুর রহমান খান পাঠানের ছেলে জহিরুল ইসলাম মিঠু দোকানে এসে তর্কাতর্কি মিটানোর চেষ্টা করেন। মিঠু আসামী রকিকে দোকান থেকে বের করে দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে ২নং আসামী এলবার্ট ডেভিট সেন্টু ছু/রি দিয়ে মিঠুর ডান হাতের বাহুতে আঘাত (ঘাই দেন) করেন। এরপর ১নং আসামী এলবার্ট ডেভিট রকি মিঠুকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে তাঁর বুকের বাম পাশে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় মিঠুকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ১৬/০৯/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ধারায় মামলা নং-১০ রুজু হয়।গৌরীপুর থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে, মামলার বাদী মো: মোখলেছুর রহমান খান পাঠানের নারাজির প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই ময়মনসিংহ জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার এর তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তিনি আসামী ১। এলবার্ট ডেভিট রকি ও ২। এলবার্ট ডেভিট সেন্টু দ্বয়ের বিরুদ্ধে গৌরীপুর থানার সম্পূরক অভিযোগ পত্র নং-৯৭, তারিখ-১৭/০২/২০২৪ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড-এ বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন।পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কর্তৃক অধিকতর তদন্ত শেষে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতে, স্পেশাল জজ আদালত, ময়মনসিংহ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অদ্য ২২/১০/২০২৫ তারিখে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বিচারক এলবার্ট ডেভিট রকি এবং এলবার্ট ডেভিট সেন্টু – এই দুই আসামীকে হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে মৃ/ত্যু/দণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা রায় ও দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন।