জেলেদের মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ওই ট্রলারটির অবস্থান বর্তমানে কোথায়— এ প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারছেন না কেউ। এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছে জেলেদের পরিবার।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে ১৩ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন— আলী আকবর (৪৯), আবু তাহের (৬৯), আবদুল মন্নান (৩৮), মো. রুবেল (২৭), আমির হোসাইন (২৭), মোহাম্মদ জামাল (৪৯), মোহাম্মদ ইসাক (৩৩), জামাল আহমদ (৩৪), মোহাম্মদ হেলাল (৩৫), শেফায়ত উল্লাহ (৩৯), জয়নাল আবেদীন জইন্যা (৫০), মোহাম্মদ এহছান (৩৮), মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন (৩৮) ও শাহাব উদ্দিন (৪৫)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। তবে তাদের বাড়ি নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বলে জানা গেছে।
কক্সবাজারের আলী আকবরের মালিকানাধীন খাজা আজমীর নামে একটি ট্রলারে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নতুন ফিশারি ঘাট এলাকা থেকে সাগরে মাছ ধরতে যান ১৯ জেলে। ওই ট্রলারের মালিক আলী আকবর নিজেও মাঝিমাল্লাদের সঙ্গে ছিলেন। সেদিন রাতেই স্ত্রী সেলিনা আক্তারের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন আলী আকবর। এরপর থেকে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। শুধু আলী আকবর নন, ট্রলারে থাকা অন্য মাঝিমাল্লাদের ফোনও একযোগে বন্ধ পাওয়া গেছে।
সেলিনা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীসহ মোট ১৮ জন ফিশিং বোট নিয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর সাগরে মাছ ধরতে গেছেন। তারা প্রায় সময় সাগরে মাছ ধরতে যান। প্রতিবারই এক সপ্তাহ কিংবা ১০ দিন পর সাগর থেকে ফিরে আসেন। এখন তাদের সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। তাদের কোনও বিপদ হয়েছে কিনা তাও বুঝতে পারছি না।
নিখোঁজ হওয়া ট্রলারটিতে ছিলেন মাতারবাড়ীর তিতা মাঝির পাড়ার আবদুল মন্নান। তার স্ত্রী ছোট ছোট সন্তানদের বুকে চেপে কাঁদতে কাঁদতে বলেন ওরা বলে বাবা কবে আসবে? আমি কী জবাব দেব? চোখ মুছতে মুছতে ভাবি, যদি আজই ফিরে আসে।’