পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মডেলহাট এলাকার জামাদার পাড়া গ্রামে আলম মিয়া (২১) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা আলেয়া বেগম তার সাবেক স্বামী আলমের বাবা ইব্রাহিম, বর্তমান স্ত্রী জহুরা বেগমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামীকে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে আলম মিয়া নিজ ঘরে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সময় আলমের দাদি ছুটে গিয়ে ফাঁসির দড়ি কেটে মরদেহটি মাটিতে শুইয়ে রাখেন।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে।
পরে দিন ৭ সেপ্টেম্বর নিহত আলমের দাদা ফরজ আলী বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে।
এদিকে নিহতের মা আলেয়া বেগম বিষয়টিকে আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে গত ১১ই সেপ্টেম্বর সাবেক স্বামী ইব্রাহিম (৫৫) ,ইব্রাহিমের বর্তমান স্ত্রী জহুরা বেগম সহ অজ্ঞত ৩/৪ জনকে আসামী করে পঞ্চগড় আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ছেলে আলম মিয়া তার গচ্ছিত তিন লক্ষ টাকা বাবার কাছে জমা রেখে ছিলেন। পরবর্তীতে নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য সেই টাকা চাইতেই বাবা-ছেলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা হত্যার কারণ হতে পারে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আলেয়া বেগম জানান, আমার ছেলে আলমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে পরে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
জানা যায়, প্রায় ২৪ বছর আগে ইব্রাহিম ও আলেয়া বেগমের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের তিন বছরের মাথায় আলমের জন্ম হয়। তবে মাত্র পাঁচ বছরের মাথায় কলহের কারণে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে উভয়েই ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বিবাহ করেন।
বিচ্ছেদের পর থেকে ছেলে আলম বাবার সাথে থাকতেন।
ছেলে আলমের হত্যাকারী সাবেক স্বামী ইব্রাহীম ও তার বর্তমান স্ত্রীকে গ্রেফতার করে আইনের আওয়া এনে বিচার দাবী করেন।মরদেহ উদ্ধারের পর আলমের বাবা ইব্রাহিম দাবি করেন, তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহিল জামান জানান, আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছি। একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।