মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল নরসিংদীর পলাশের সামাজিক সংগঠন আমরা দুর্বার। গত শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওড়া গ্রামের মূল সড়কের পাশে পঙ্গু যুবক আশাবুদ্দিনকে মালামালসহ একটি দোকান করে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় উভয় পা ভেঙে গিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আশাবুদ্দিন। এরপরও তিনি ভিক্ষা নয়, বরং নিজেকে স্বাবলম্বী করার আকাঙ্ক্ষা ধরে রেখেছিলেন। তার এই আত্মমর্যাদাবোধকে সম্মান জানিয়ে আমরা দুর্বার সংগঠন দেশ ও প্রবাসের সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় আশাবুদ্দিনের জন্য দোকানের ব্যবস্থা করে দেয়।
দোকান হস্তান্তর শেষে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। আশাবুদ্দিনের সুস্থতা ও ব্যবসায়িক সফলতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আশাবুদ্দিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি কারও কাছে হাত পাততে চাইনি। স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, দেশ-বিদেশের সকল শুভানুধ্যায়ী ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
সংগঠনের সভাপতি রাজিব সরকার জানান, “আশাবুদ্দিন নিজের চেষ্টায় কিছু করতে চেয়েছিলেন। আমরা তার সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছি। আশা করি, দোকান পরিচালনার মাধ্যমে তিনি আত্মনির্ভর হয়ে উঠবেন। আমাদের এ ধরনের মানবিক কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম প্রিন্স বলেন, “এ মহৎ কাজে অংশ নিতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। দেশ-বিদেশ থেকে যারা আর্থিক সহায়তা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আরেক উপদেষ্টা মো. হানিফ মিয়া বলেন, “প্রতিবন্ধী মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করবে। এই দোকানের মাধ্যমে আশাবুদ্দিন তার পরিবারকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারবেন।”
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের স্বনির্ভর করতে হলে সমাজের বিত্তবানদের এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসা জরুরি।