চট্টগ্রাম নগরীতে অনুমতি ছাড়া ওয়াসা বা অন্য কোনো সংস্থা এক ইঞ্চিও রাস্তা কাটতে পারবে না এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “রাস্তা কাটার নামে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ধ্বংস এবং নগরবাসীর জীবন দুর্বিষহ করা আর সহ্য করা হবে না। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে চসিক পিছপা হবে না।”
দুপুরে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন।
সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “ওয়াসা সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা কাটছে। এতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নকাজ নষ্ট হচ্ছে, জনগণের কষ্ট বেড়েই চলেছে। কোথায় নতুন টেন্ডার হচ্ছে, কোন সড়ক সংস্কারের আওতায় আছে—এসব তালিকা আমরা দেব। তবুও যদি অনুমতি ছাড়া কাটাকাটি হয়, সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিটি সড়ক খননের পর ওয়াসাকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে—কোথায় কত ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্কারে আসল খরচ কত। অন্যথায় দায়ভার একতরফাভাবে নেবে না সিটি কর্পোরেশন।”
ওয়াসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ৯৩ কিলোমিটার রাস্তা খুঁড়ে ৪৮ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য চসিককে হস্তান্তর করেছে এবং সংস্কার ব্যয় বাবদ ৮২ কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু মেয়রের মতে, “ওয়াসার দেওয়া অর্থের চেয়ে দ্বিগুণ-তিগুণ খরচ করে রাস্তা সংস্কার করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন রাস্তা নির্মাণ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে আবার ওয়াসা খনন শুরু করেছে। এতে শুধু জনদুর্ভোগ নয়, কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ধ্বংস হচ্ছে।”
জরুরি নির্দেশনা : গর্ত ভরাট ও ড্রেনেজ নিশ্চিতকরণ-প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দিয়ে মেয়র বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ সড়কের গর্ত ও ভাঙা অংশগুলো দ্রুত প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি উন্নয়নকাজে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসী মুক্তি পায়।”
স্বাস্থ্য পরিস্থিতি : ডেঙ্গু–চিকনগুনিয়ায় সতর্কবার্তা-চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়ায় মেয়র স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগকে আরও সক্রিয় হতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি ওয়ার্ডে মেডিকেল অফিসার ও প্রাইমারি হেলথ সেন্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।”
এসময় মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি জানান, নতুন ওষুধ বিটিআই অনুমোদন পেলে আগামী সপ্তাহ থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ শুরু হবে।
রাজস্ব আদায়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মেয়র বলেন, “চট্টগ্রামে ৪ থেকে ৫ লাখ ট্রেড লাইসেন্স থাকার কথা, অথচ আছে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার। এবার কোনো অজুহাত চলবে না। নগরীতে ব্যবসা করলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বড় বড় ডিফল্টাররা বছরের পর বছর হোল্ডিং ট্যাক্স দেয় না। এবার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা হবে না। জন্মসনদ বা নাগরিক সেবার সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্সকে জড়িয়ে দেওয়া যাবে না।”প্রয়োজনে চসিক ‘রাজস্ব সপ্তাহ’ চালু করবে, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর পরিশোধ করেন। তবে ইচ্ছাকৃত ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
প্রযুক্তি নির্ভর নতুন উদ্যোগ : ‘আমার চট্টগ্রাম’ অ্যাপস,নাগরিক সেবা সহজ করতে চসিক শিগগিরই চালু করতে যাচ্ছে “আমার চট্টগ্রাম” অ্যাপস। এ অ্যাপসের মাধ্যমে নগরবাসী রাস্তার গর্ত, ময়লার স্তূপ বা যেকোনো সমস্যা সঙ্গে সঙ্গে ছবি তুলে জানাতে পারবেন। এতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে বলে জানান মেয়র।
সভায় চসিক সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দসহ সব বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।