বর্তমান বাংলাদেশের অবস্থা দেখে আমি মনে করেছিলাম নতুন করে লেখালেখি করবোনা আর করতেও চেয়েছিলাম না তার পরেও লেখা হাত বসে থাকতে পারলামনা। বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কিছু কথা না লিখে থাকতে পারলাম তাই আবার অনেকদিন পরে মোবাইল হাতে নিয়ে লিখতে বসলাম। প্রতিহিংসার নয়! ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে হিংসা বিদ্বেষ বাদ দিয়ে এদেশে জামায়াতকে উদারপন্থা রাজনীতি করতে হবে।
আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলো থেকে বুঝতে পারছি জামায়াতের প্রধান শত্রু হচ্ছে ভারত এবং এই দেশে ভারতের প্রধান শত্রু হচ্ছে জামায়াত। জামায়াত শিবির আসলে বিএনপি/ আওয়ামিলীগ কারো সাথেই খেলছেনা বা খেলতেও চাই না। মুলত তারা খেলছে ভারতের সাথে। ডাকসু এবং জাকসুতে শিবিরের জয়ে সবচেয়ে আতংকে আছে ভারত। কারণ তাদের ধারণা আগামী নির্বাচনে জামায়াত শিবির এই বিজয়কে তাদের সফলতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইবে। দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষিতরা তাদের নির্বাচিত করেছে। সুতরাং জামায়াতের ভয় পাওয়ার কারণ নাই। ভারতের ভয় হচ্ছে জামায়াত ক্ষমতায় এলে তাদের দেশে অস্থিতিশীল বাড়তে থাকবে। পাকিস্তান পন্থী লোকেরা ভারতে ঢুকা শুরু করবে। ভারতের কাছে তাই জামায়াত ই সবচেয়ে বড় ইস্যু।
গত ২০ বছরে জামায়াত শিবিরের কাজকর্ম কথাবার্তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, তারা চরম পন্থা, ডান পন্থা থেকে একটু একটু করে দূরে সরে এসেছে। এটা ভারতের জন্য আরও বেশী উদ্বেগের। এতে করে এক শ্রেণীর প্রবীণ, সৎ,ও ন্যায় নিষ্ঠাবান মানুষগুলো জামায়াত শিবিরে আকৃষ্ট হতে শুরু করছে এবং ধীরে ধীরে তারা সবাই জামায়াত শিবিরকে সাপোর্ট করতেছে।
দেশে বর্তমানে ২০/২৫ বছরের তরুণরা কেউই জামায়াতকে দেখেনি শুধু লোকমুখে গল্প শুনেছে এরা এরা রাজাকার আলবদর। জামায়াত শিবির তাদের কাছে হয়ে আছে একটা মিথ এবং কুচক্র দল। সেই তরুণরা এবার জামায়াত শিবিরকে ভালো করে দেখতে চায়। জামায়াত শিবিরের ভোট বাড়ার অন্যতম কারণ এই তরুণ প্রজন্মের। জামায়াত শিবিরও ঠিক তাদের পালস ধরে ধরে রাজনীতি করছে যেটা বিএনপি বা অন্যান্য দল করতে ব্যার্থ হচ্ছে।
ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচন সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে খুব বেশি প্রভাব না ফেললেও তাদের এই বিজয়ে অনেক ভোট বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। জামায়াত এই ডাকসু এবং জাকসুকে কাজে লাগিয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনেই জয়লাভ করার চেষ্টা করবে এবং তার পর পর ই আসছে জাতীয় নির্বাচন। সামনে যে পরিবেশটা আসছে সেই পরিবেশটাই জামায়াতকে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যাবে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি জামায়াত শিবিরের এবার ক্ষমতায় আসার অনেক সুযোগ রয়েছে যদি তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে!
কিন্তু জামায়াত যদি ক্ষমতায় এসে সেই ৯০ দশকের রাজনীতি করতে চায়! তাহলে তারা ১ বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে তাদেরকে অবশ্যই উদারপন্থা রাজনীতি করতে হবে এবং সেই ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে ব্যাপক চর্চাও করতে হবে। আমার দেখা এবং জানামতে বাংলাদেশের মানুষ এই প্রথম জামায়াত শিবিরকে ব্যাপক সমর্থন জোগাচ্ছে, এর প্রতিদানে জামায়াতকেও ছাড় দিয়ে পিছনের দোষ ত্রুটিগুলো মুছে ফেলে সব অত্যাচার ক্ষমার চোখে দেখে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে হলেও এদেশে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য উদারপন্থায় রাজনীতি করতে হবে। তা না হলে ক্ষমতায় আসা এবং এদেশে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কখনো সম্ভব হবে না।