খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রত্যন্ত ও চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আজ সোমবার ০৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (দি বেবি টাইগার্স) দীঘিনালা সেনা জোনের উদ্যোগে উপজেলার কবাখালি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্ঘম পাবলাখালী কৃপাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯.৩০ টা থেকে শুরু হওয়া এই মেডিকেল ক্যাম্প চলবে বিকেল পর্যন্ত। সারাদিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্পে এলাকার তিন শতাধিক নারী-পুরুষ শিশু ও শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র বিতরণ করা হবে।
দীঘিনালা জোনের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন রাকিবুল ইসলাম নিজে উপস্থিত থেকে দিনব্যাপী এ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণের পাশাপাশি অন্যান্য সেবা কার্যক্রম নিভির ভাবে তদারকি করেন।
ক্যাপ্টেন রাকিবুল ইসলাম এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন “দীঘিনালা জোনের দুর্গমতম অঞ্চলগুলোর একটি হলো কৃপাপুর এলাকা। এখানকার মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা অনেকটাই সীমিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমরা নিয়মিতভাবেই এই সকল দুর্গম এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করে আসছি যাতে এই প্রান্তিক মানুষ গুলো তাদের ঘরের কাছেই জরুরী স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারে। আমাদের এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সেনাবাহিনীর মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা নন্দন চাকমা (৫৫) তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে হাটু বুকের ব্যথায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিলাম। আজ সেনাবাহিনীর ডাক্তার দেখিয়ে বিনামূল্যে ঔষধ পেয়েছি। আশা করি এতে আমার অনেক উপকার হবে। এমন সেবার জন্য আমি সেনাবাহিনীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
আরেকজন সেবাগ্রহীতা লক্ষ্মী চাকমা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আগে অসুস্থ হলে সহজে ভাল চিকিৎসার সুযোগ পেতাম না। আজকের এই মেডিকেল ক্যাম্প আমার মত এই এলাকার আরো অনেক মানুষের জন্য আশীর্বাদের মতো। সেনাবাহিনীর এমন মহৎ উদ্যোগ যদি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয় তাহলে আরো বেশী উপকৃত হব।”
স্থানীয় পহাড়ি জনগোষ্ঠীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতঙ্গতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপে দুর্গম পাহাড়ের মানুষের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।