মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের আশিদ্রোন ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদে নওমুসলিম দিনমজুর রমজান মিয়ার পরিবার আজ ভয় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। নিরীহ এ পরিবারের বড় মেয়ে মরিয়ম বেগম (২০), ৩ বছরের এক শিশু সন্তানের জননী, প্রভাবশালী স্বামী আমিনুল ইসলাম বাবু ও শ্বশুর হাসিম মিয়ার নির্যাতন ও মিথ্যা অপবাদে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
রমজান মিয়া একসময় চা শ্রমিক ছিলেন। হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করে খাস জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করেছেন। সমাজে মুসলিম পরিচয়ে মিশলেও যখন বড় মেয়েকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় প্রভাবশালী বাড়িতে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হলো, তখন থেকেই শুরু হয় তাদের সর্বনাশ। কাগজে দুই লক্ষ টাকা কাবিন ধার্য হলেও আজ পাঁচ বছরেও কাবিন হয়নি। উল্টো যৌতুকের নামে একের পর এক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ এক লক্ষ টাকা না দিতে পারায় মরিয়মকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার পঞ্চায়েত ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সালিশে মরিয়মের বিরুদ্ধে আনা পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তবুও বাবু প্রকাশ্যে বিচার চলাকালীন তিন তালাক উচ্চারণের চেষ্টা করে, যা এলাকায় ক্ষোভের ঝড় তোলে। উত্তেজিত জনতার চাপেই সাময়িকভাবে প্রভাবশালী পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। কিন্তু পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটি উঠিয়ে নেওয়া হলেও মরিয়মের জীবন আজও নিরাপদ নয়।
মরিয়ম নিজেই জানান, স্বামী বাবু তাকে তালাক ও শিশুকন্যাকে নিয়ে উল্টো মামলা করার ভয় দেখায়। এমনকি নিজের বন্ধু রাসেল মিয়াকে দিয়ে সাজানো নাটক তৈরি করে তাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। রাসেলও স্বীকার করেছে, বাবুর চাপে সে মিথ্যা কথোপকথনে অংশ নেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুরুব্বিরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—রমজান মিয়া ও তার পরিবার নিরীহ, অথচ মামলাবাজ ও প্রভাবশালী মহল তাদের জীবনকে তছনছ করে দিচ্ছে।
আজ প্রশ্ন জাগে—নওমুসলিম এই পরিবার কি কেবল দুর্বল ও স্বজনহীন বলেই এমন অপমান-অত্যাচারের শিকার? তিন বছরের এক শিশুর ভবিষ্যৎ কি এইভাবে ধ্বংস হবে? সমাজ ও রাষ্ট্র কি এই অবিচারের সামনে নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?