খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. ফারুক হোসেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম কানুন অনুযায়ী ছোট ছোট কাজ থেকে কোন কিছুই ভাইস চ্যান্সেলরের অবর্তমানে করা সম্ভব নয়। একই সাথে যে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জনিত ঝুকির মধ্যে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ আছে, এই ঝুকি গুলোর দায়িত্ব নেওয়ার জন্য একজন অভিভাবক দরকার। তিনি বলেন একজন গাড়ির চালক থাকলে তার পর আমরা তাকে সহযোগিতা করতে পারি। কিন্তু সেই জায়গায় অন্য কেউ বসে দায়িত্ব নিতে পারবে না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অবস্থা নিরসন এবং দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য অনতিবিলম্বে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের দাবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধনে বক্তব্যে এ কথা বলেন। কুয়েট শিক্ষক সমিতি এ মানববন্ধন আয়োজন করে। ২৩ জুলাই বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা পাদদেশে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন ধরে একটা ক্রানিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। একটা গাড়ি বা জিনিস ২/১ মিনিট বা ২/৪ দিনের জন্য কেউ রান করিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টা মুলত ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ অবস্থায় আছে। মাঝখানে মধ্যবর্তী যে ভাইস চ্যান্সেলর এসেছিলেন, উনি যখন চলে গেছেন, তখনও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ অবস্থায় ছিল। বন্ধ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবক শুন্য হয়ে পড়ে। যার পর থেকে প্রতিটি কাজ যেকাজ গুলো শুরু করতে গেলেই ভিসি লাগবে,সেকাজ গুলো কোন ভাবে শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমরা ভিসির জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। বিলম্বিত দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও ডীনদের পক্ষ থেকে মে মাস থেকে দফায় দফায় সরকার, ইউজিসি, মন্ত্রণালয় এগুলোতে চিঠি পাঠাতে শুরু করি, আমরা নিজেরা যেয়েও সাক্ষাত করে এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করি।আমরা খুব দুঃখের সাথে অনুধাবন করলাম সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে উনারা বুজতে পারছেন না যে একজন অভিভাবক ছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে চলতে পারে? দীর্ঘ সময় উনাদের সাথে আলোচনা করে আমরা আশ্বস্থ হলাম উনারা বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কানুন নিয়ে উনারা অবাক বিস্ময় প্রকাশ করলেন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কানুন যা আছে সেটা নিয়েই আমরা দীর্ঘ সুনামের সাথে চলছি। সোশাল মিডিয়ায় আমরা ছাত্র শিক্ষক, অভিভাবক সবার হতাশার কথা দেখতে পারছি। সবকিছুর মুলে আমরা তখন ছাত্রদের সাথে কথা বলি, অভিভাবকদের সাথে কথা বলা শুরু করি, যার ফলশ্রুতিতে আজকে সবাই একত্রিত হয়ে সরকারের কাছে এই বার্তা দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তায় দাড়াতে হয়েছে যে একজন ভিসি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। একারনে আপনারা দ্রুত পদক্ষেপ নিন একজন ভিসি দেওয়ার জন্য। মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, ২০০৩ সালে বাংলাদেশে চারটি ইউনিভার্সিটি বিআইটি থেকে ইউনিভার্সিটিতে কনভার্ট হয়। ভিসি ছাড়া যে কোন কিছু চলে না এর প্রথম ভুক্তভোগী হয় রুয়েট। ভিসি ছাড়া ঐ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রায় ২ মাসের অধিক সময় অচল ছিল বেতন ভাতাদি থেকে শুরু করে কোন ধরনের প্রশাসনিক কাজ হয়নি। ঢাকা,চট্রগ্রাম,রাজশাহী, জগ্ননাথ এই চারটি ইউনিভার্সিটি ৭৩ সালের এ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। ৭৩ এর এ্যাক্টে ঔই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একাডেমিক এবং প্রশাসনিক স্বায়ত্ত্বশাসন রয়েছে। কিন্তু এর পরবর্তী কুয়েট সহ বাকি যে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ” ৭১ এর এ্যাক্ট অনুযায়ী চলে। ৭১ এর এ্যাক্ট অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর একাডেমিক সায়ত্তশাসন আছে কিন্তু প্রশাসনিক সায়ত্ত্বশাসন নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়ম অনুযায়ী আমাদের একটা বাসা বরাদ্দ কিংবা বাসায় কাউকে উঠাতে ভিসির সাক্ষর ছাড়া সম্ভব নয়। এই জন্য আমাদের দ্রুত ভিসি দরকার। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থবিরতা চলছে। আমরা আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে শংকিত। আমরা সাধারন শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে গভীর ভাবে উদ্ধেগ প্রকাশ করছি। পাশাপাশি আমাদের অভিভাবকেরাও উদ্ধিগ্ন। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আসুক। শিক্ষা কার্যক্রম এবং আমাদের পরিক্ষা যেগুলো বাকি আছে সেগুলো দ্রুত চালু করার ব্যবস্থা করা হোক। মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সুলতান মাহমুদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদ, ইলেকট্রিক্যাল এ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. ইলিয়াস, ইসির বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মনির হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যান পরিচালক প্রফেসর ড৷ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার, এনার্জি সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. হাসান।অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিথী আক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সায়েম প্রমুখ।