খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কবাখালি বাজার সংলগ্ন মুসলিম পাড়ার ছোট নদীর তীরে চার যুগ আগে ঘর বেঁধে স্বপ্নের সংসার শুরু করেছিলেন কাজল বেগম (৬০) ও তাঁর স্বামী আব্দুল কাদের।
সময়ের পরিক্রমায় স্বামীর সঙ্গ হারিয়ে চার সন্তানদের নিয়ে একটি ছোট কুঁড়েঘরে থাকতেন । কিন্তু সেই আশ্রয়টুকুও পাহাড় থেকে নেমে আসা ছোট নদীর স্রোতের কাছে হারিয়েছেন ১৫ বছর আগে।
তারপর অনেক কষ্টে এক দুই পয়সা জমিয়ে, খেতে খামারে কাজ করে গড়ে তুলছিলেন স্বপ্নের ছোট্ট নিবাস। সেটিও এখন আবার নদীভাঙ্গণে বিলীনের পথে।
পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে নেমে আসা ছোট নদী টি শুকনো মৌসুমে শান্ত থাকলেও বর্ষায় রূপ নেয় ভয়াবহ দানবে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত ধসে পড়ছে কাজল বেগমের ভিটেমাটি।
শনিবার (২৪ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন কাজল বেগম। দুশ্চিন্তা ও হতাশা জমে উঠেছে তাঁর চোখে-মুখে।ভিটার দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, এই ভিটে আমার স্বপ্ন, আমার জীবনের শেষ অবলম্বন। একবার নদীর কাছে সব হারিয়েছি। আবার নিজের রক্ত পানি করে, মানুষের বাসায় কাজ করে খুব কষ্টে ছোট্ট একটি ঘর তুলে বসবাস করছি, কিন্তু এটাও এই নদী কেড়ে নিবে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বামী থাকলেও খোজ খবর নেন না, অন্যত্র বসবাস করেন। ছেলে-মেয়েরা নিজেদের সংসারে ব্যস্ত। মানুষের খেতে কামলা দিয়ে যে টাকা পাই তা দিয়ে দুবেলা দু মুঠো ভাত খেয়ে জীবন-যাপন করছি। দিন গুনছি, কখন নদী আমার এই শেষ আশ্রয়টুকুও গিলে খাবে। আর আমার জীবনের সমাপ্তি ঘটবে।
অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে নদীভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তিনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দারস্থ হলেও মিলেনি কোনো সাড়া।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, প্রতি বর্ষায় এই নদী ভয়াবহ রূপ নেয়। অনেক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।
কাজল বেগমের আকুতি, সরকার আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একটু পাশে দাঁড়ালেই হয়তো আমার ঘরটা রক্ষা পেত। এই নদী যেন আমার স্বপ্নের শেষ অংশটুকু না কেড়ে নেয়।