মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো : বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে দ্ধিতীয় বার দখলমুক্ত হলো খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ। খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ( সার্বিক) মো: হুসেইন শওকতকে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বানিজ্য মন্ত্রনালয়। তাকে ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর সাধারণ ব্যবসায়ীদের বের করে দিয়ে সংগঠনটি দখল করেন বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা ১১ সদস্যর এডহোক কমিটি গঠন করেন,যার নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগীরা। কমিটিতে আওয়ামীলীগ নেতাদের পুর্নবাসনের মাধ্যমে বিপুল অংকের টাকার লেনদেন হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।যার প্রেক্ষিতে বানিজ্য মন্ত্রনালয় প্রশাসক নিয়োগ করলেন।ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ বছর বানিজ্যক সংগঠন অভ্যন্তরীণ নৌ- পরিবহন মালিক গ্রুপ ছিল শেখ পরিবারের নিয়ন্ত্রনে। ৫ আগষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর সাধারণ সদস্যরা শেখ সোহেলের নেতৃত্বাধীন কমিটির সকলকে পদত্যাগে বাধ্য করান। পরবর্তীতে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে গঠন করা হয় ৫ সদস্যর এডহক কমিটি। প্রবিন দল নিরপেক্ষ ব্যবসায়ীরা ছিলেন এডহক কমিটির সদস্য। তারা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।কিন্তু আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। গত ২৯ ডিসেম্বর কিছু ছাত্ররা এসে সাধারণ সদস্যদের এডহক কমিটি ভেঙে দেন।।পরে শেখ জহির, কাজী রাহাত সহ বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীরা কার্যালয়টি দখল করে ১১ সদস্যর কমিটি গঠন করে দেন। এডহক কমিটির আহবায়ক করা হয় শেখ সোহেলের নেতৃত্বাধীন কমিটির ১ নম্বর পরিচালক এস এম আকবর হোসেনকে। ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক আহবায়ক করা হয় আওয়ামীলীগের অন্যতম সুবিধাভোগী শেখ হেলালের বন্ধু পরিচয় দেওয়া নজরুল ইসলামের ভাই এস এম রফিকুল ইসলামকে। ৫ নম্বর সদস্য কাজী গোলাম ফারুক এর আগে শেখ সোহেলের নেতৃত্বাধীন পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব এবং ৬ নম্বর সদস্য সঞ্জীব দাস ওই কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। কমিটির সদস্য সচিব এস এম আজাহার আলী ছিলেন সংগঠনের বেতন ভুক্ত সচিব। ওই সময়ে সাবেক মহাসচিব সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।অভিযোগ রয়েছে আওয়ামীলীগের সুবিধাভোগী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের পুর্নবাসন করা হয়।এই টাকার একটি অংশ একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ এক নেতাও পেয়েছেন। সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই কমিটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে দখলে জড়িতরা জোর করে কার্যক্রম চালাতে থাকেন। কেউ যাতে কার্যালয়ে ঢুকতে না পারেন এজন্য উঠতি মাস্তান্দের দিয়ে পাহারা বসানো হয়।ব্যবসায়ীরা মালিক সমিতিতে গেলে মালিক সমিতিতে গেলে তাদের লাঞ্চিত করার ঘটনাও ঘটে। কার্যালয়ের ভেতরে মদ ও মাদক সেবন সহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ হতে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ২ মাসে নৌ- পরিবহন ব্যবসায়ীরা যে ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছেন, আওয়ামীলীগের ১৫ বছরে ও তা হয়নি।মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অনেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে এর পরিত্রান হবে বলে আশা করছেন তারা। খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ( সার্বিক) মো: হুসেইন শওকত বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি এখনো হাতে পায়নি।হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।