ভোলা জেলা প্রতিনিধি
আসন্ন ‘মা ইলিশ’ রক্ষা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজী।
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে জেলেদের জীবিকা ও খাদ্যসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠে জেলেদের সম্পৃক্ত করে সবজি চাষের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
শাহাবুদ্দীন ফরাজী বলেন, ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে জেলেদের শুধু ৩০ কেজি করে চালের প্রণোদনা দিলেই তাদের প্রয়োজন মেটে না। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে তারা খাবারের সংস্থান করবে, কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করবে—এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে অনেক জেলে পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে গিয়ে মা ইলিশ ধরতে বাধ্য হতে পারেন।
তিনি বলেন, “মা ইলিশ রক্ষা করতে হলে শুধু নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে হবে। জেলেদের হাতে কাজ থাকলে তারা নদীতে গিয়ে মা ইলিশ নিধনে আগ্রহী হবে না।”
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জেলেদের শুধু চালের প্রণোদনার ওপর নির্ভরশীল না রেখে চর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে পরিকল্পিত কৃষি প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা দিয়ে জেলেদের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।
এতে একদিকে জেলেদের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অনাবাদি চরাঞ্চল কৃষি উৎপাদনের আওতায় আসবে। বাড়বে সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের উৎপাদন, কমবে খাদ্যপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা। একই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়িয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।
বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের বক্তব্য—জেলেকে বাঁচিয়ে, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেই মা ইলিশ রক্ষা করতে হবে।