এস এম শহিদুল ইসলাম বাবলু : লালমনিরহাটের আদিতমারি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন ও সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকায় রাতের অন্ধকারে ভেকু ও ট্রাক্টর দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এতে হারিয়ে যাচ্ছে শতশত বিঘা কৃষি জমি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে মাটি কেটে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মানচিত্র থেকে উধাও করে দিচ্ছে কৃষি জমি। যদিও কৃষি জমি রক্ষায় সরকারের কড়া নির্দেশ রয়েছে। এরপরও সেগুলো রক্ষা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। সরকার বারবার কৃষি জমি রক্ষার তাগিদ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছেন না। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার, সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের ভূমি অফিসের আওতাধীন পূর্ব দোলজোর ও গিলাবাড়ি এলাকায় তিনটি ইট ভাটার আশেপাশে ভেকু ও বেলচা দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে।। এমনকি ভেলাবাড়ি ইউনিয়নে ভূমি অফিসের আওতাধীন শালমারা, নাড়িয়ার বাজার, ফলিমারি, পুরান ভেলাবাড়ি, মরিচবাড়ি ও কালীর হাট এলাকায় কৃষি মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে তিনটি ইট ভাটায়। সংশ্লিষ্টরা ভেকু ও বেলচা দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ৩ থেকে ৫ ফুট গভীর গর্ত করে কৃষি জমির সল্টেজ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ফসলি জমি চিরতরে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে। এভাবে গর্ত করায় পাশের কৃষি জমিও ভেঙে পড়ছে। ফলে কিছু কিছু জমির মালিক বেশি টাকার লোভে ইট ভাটা গুলোতে মাটি বিক্রি করলেও অনেকেই বাধ্য হয়ে বিক্রি করছেন। এছাড়া মাটি ব্যবসায়ীদের থাবা থেকে বাদ যাচ্ছে না খাস জমি, খাল এবং নদ-নদীর তীরও। অপরিকল্পিতভাবে নদ-নদীর পাড় কেটেও বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি নেওয়া হচ্ছে। মাটি কাটায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। যা জলবায়ুর ওপর প্রভাব পড়বে। এভাবে কৃষি জমি নষ্ট করায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। জমির মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায় বিষয়টি জেনেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও কোনো মাথা ব্যথা নেই। পরিবেশ ও প্রতিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে কৃষি জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা।