সোহাগী আক্তার জুই,গাজীপুর : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ীর বেশকয়েকটি সড়কের দু’পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে দখলদাররা। প্রশাসনের নীরবতার কারণে এই সমস্যাটি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতেও পারছেন না পথচারিরা গাজীপুরেকোনাবাড়ী,মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ,চন্দ্রা,সহ মহাসড়কের পাশে সকল স্থানের ফুটপাত দখল করে হয়েছে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দোকান। এমনকি স্থায়ী এসব দোকানের নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে ফুটপাত দখল করে গেঞ্জি, শার্ট,প্যান্ট, শীতের সোয়েটার, সহ জুতা,হরেক মাল, বিভিন্ন ধরনের ফল, ও বিভিন্ন রকমারি পণ্য সাজিয়ে রেখেছে দোকানদাররা। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। সফিপুর বাজারে হাটের দিন, কবুতর, হাঁস, মুরগি, বিভিন্ন ধরনের গাছ, অনেক কৃষি পণ্য মহাসড়কের ওপর বেচাকেনা চলে। এ কারণে প্রতি হাটে ঘন্টার পর ঘণ্টা যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক ও রাস্তার পাশের ফুটপাত দিয়ে প্রতিদিন কোমলমতি শিশুরা স্কুলে যাতায়াত করেন। কিন্তু ফুটপাতগুলোতে দোকান তৈরি হওয়ার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছেন। আবার ফুটপাতে স্থান দখল হওয়ার কারণে মহাসড়ক ঘেসে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকছে অটোরিকশা চার্জার ভ্যান ও ইজিবাইক, যার কারণে মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। আবার বিএমপির নাম ভাঙ্গিয়ে কিছু হাইব্রিড নেতা অবৈধ ফুটপাতের দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন তুলছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা বিএমপির প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত করছেন চাঁদাবাজি। পথচারী রুবেল ইসলাম রাজ অভিযোগ করে বলেন, বাজারের রাস্তাটি খুবই অপ্রশস্ত। এ রাস্তা দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এরমধ্যে রাস্তার দু’পাশে ফুটপাত দখল করে রেখেছে দোকানদাররা, যার কারণে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। সফিপুর বাজার এলাকায় পথচারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফুটপাত দখলে থাকায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। গত সপ্তাহে আমার বন্ধু এদিক দিয়ে চলাচল করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আবার পুরুষের চেয়ে মহিলাদের চলাচল করতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। ফুটপাত দখল করা একাধিক দোকানি বলেন, ফুটপাতগুলোতে দোকান দেওয়ার কারণে আমাদের মাসে মাসে ভাড়া গুনতে হয় না। ইউনিয়ন বা পৌরসভা থেকে কোন ট্রেড লাইসেন্সেরও প্রয়োজন হয় না। আমাদের একবার কোন রকম কোন একটা স্থানে বসতে পারলে হলো তারপরে যারা চাঁদা তোলে তাদেরকে ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে প্রতিদিন দেই তাছাড়া আর কোন ঝামেলা নেই। তবে সফিপুর,ও কোনাবাড়ী একাধিক পথচারী বলেছেন, রাস্তার পাশের ফুটপাতগুলো তৈরি করা হয়েছে আমাদের মতো সাধারণ পথচারীদের জন্য। কিন্তু ফুটপাতের ওপর প্রতিনিয়িত দোকান-পাট বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে আমরা রাস্তাগুলো দিয়ে চলাফেরা করতে পারছি না। সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রশাসনের প্রতি আমাদের অনুরোধ- দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকৃত স্থানগুলো ফাঁকা করে মানুষের চলাচলের সুজগ তৈরি করে দেওয়া হোক। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ এর সাথে কথা বললে তিনি মুঠোফোনে জানায়, আমরা তিন দিন যাবত তাদেরকে এই সড়কের অবৈধ ফুটপাত দোকান উচ্ছেদ করতে বলি তারা উচ্ছেদ না করলে, প্রাথমিক ভাবে আমরা একটা অভিযান পরিচালনা করি, তারপরও তারা সড়ক থেকে অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদ করেনি। পরবর্তীতে যদি সড়কের পাশে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করেন ফুটপাত থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।