নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এক আদেশের মাধ্যমে কতিপয় স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণের আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে, কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন ফাইল দাখিলের যে আদেশ দিয়েছেন, সেই সাথে কেবলমাত্র অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ফাইল দাখিল বাধ্যতামুলক করেছেন, তার তীব্র সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের সচেতন সমাজ (বাসস)। সংগঠনটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথসভায় বাংলাদেশের সচেতন সমাজ এবং বাংলাদেশের সচেতন কর-আইনজীবী সমাজের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আলোচনা সভায়, “বাসস“ এর সভাপতি মোঃ আবু মুসলিম বিন হাই এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম, এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ২২-১০-২০২৪ইং এক আদেশের মাধ্যমে কতিপয় স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণের আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে, কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন ফাইল দাখিলের যে আদেশ দিয়েছেন, সেই সাথে কেবলমাত্র অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ফাইল দাখিল বাধ্যতামুলক করেছেন, ইহা এমন একটি নির্দেশ যাহা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর, আত্মঘাতী এবং সময় অনুপযোগী। কারন, এই নির্দেশের ফলে কর ফাঁকি বেড়ে যাবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাবে। আমরা মনে করি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের এই আদেশের ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এতে করে সরকার, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিপাকে পরবে। রিটার্ন দাখিলের শেষ সময় হচ্ছে ৩০-১১-২০২৪ইং অর্থাৎ মাত্র ৩৮ দিন সময় অবশিষ্ট থাকা অবস্থায়, হঠাৎ তিনি কেন এমন আদেশ জারী করলেন ? তাহা কারোই বোধগম্য নহে। তাছাড়া, এতো অল্প সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন ফাইলের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি এবং পাসওয়ার্ড সংগ্রহ সহ যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করে আয়কর রিটার্ন ফাইল তৈরি এবং দাখিল করা অসম্ভব একটা বিষয়। ইতিমধ্যেই আইনজীবীগন চলমান নিয়মেই তাদের ক্লাইন্টদের আয়কর রিটার্ন ফাইল তৈরি করেছেন। এমতাবস্থায়, এমন আদেশ জারি করা অবশ্যই আইনজীবীদের কাজে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এরই মধ্যে উক্ত আদেশের ফলে আইনজীবীদের সাথে করদাতাদের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া, এই আদেশের ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহিত আয়কর আইনজীবীদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দিবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান সাহেবের এই উদ্ভট সিদ্ধান্তের প্রতি সারা দেশের সকল আইনজীবী সহ সকল নাগরিকগন ক্ষোভ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। তাছাড়া, এই বৈষম্যেমুলক নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য অনেকেই রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নিকট জোড়ালো আহবান জানাচ্ছেন। কিন্তু উনার নিকট থেকে এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মনে করি হঠাৎ নতুন আদেশ চাপিয়ে দেয়া সঠিক ও উপযোগী সিদ্ধান্ত নহে। বরং এই আদেশ টি আগামী করবর্ষ থেকে কার্যকর করলে, করদাতা এবং আইনজীবী সহ সকলের জন্যই সহায়ক ভূমিকা রাখবে । বিবৃতিতে, এই বৈষম্যেমুলক নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য জোড়ালো আহবান জানানো হয়।