সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের বার্ষিক পুষ্টি পরিকল্পনা ২০২৬-২৭ প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করেন কলারোয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুড নিউট্রিশন (GAIN)। কার্যক্রমটি পুষ্টিসংবেদনশীল ও বৈচিত্র্যময় কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। GAIN-এর RAINS কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ে মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পুষ্টিসংবেদনশীল উদ্যোগ চিহ্নিত ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে উপজেলার সোনাবাড়ীয়া, চন্দনপুর, হেলাতলা, যুগিখালী, দেয়াড়া ও কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, চেয়ারম্যান, একজন ইউপি সদস্য, সাংবাদিক, ইমাম, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা ও কৃষি উদ্যোক্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় ইউনিয়ন পর্যায়ে পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে করণীয়, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, কৃষি ও পুষ্টির মধ্যে সমন্বয়, নারী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টিসংবেদনশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু খাদ্য উৎপাদন বাড়ালেই পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; নিরাপদ, বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসের উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, কৃষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউনিয়নভিত্তিক পুষ্টি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। GAIN বাংলাদেশে সরকারি ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে খাদ্যব্যবস্থা ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করছে।
আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত শাকসবজি, ডাল, ফলমূলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যের উৎপাদন ও ভোগ বাড়ানো, কৃষকদের পুষ্টিসংবেদনশীল কৃষি বিষয়ে উৎসাহিত করা, নারী উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ইউনিয়নের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে মতামত দেন। এসব মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়নভিত্তিক বার্ষিক পুষ্টি পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।উল্লেখ্য, বাংলাদেশে GAIN-এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে পুষ্টিসংবেদনশীল কৃষি, জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, নারী ও যুব সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টি উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।