ঢাকার সাভারের পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে এক সরকারি কর্মচারীকে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী মো. সোহেল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একজন কর্মচারী। তিনি জানান, সোমবার দুপুর আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে অফিস শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে সাভারের পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তার মোটরসাইকেল থামান। পরে তাকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোহেলের দাবি, তার মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশনসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বৈধ ও হালনাগাদ ছিল। এরপরও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বিভিন্ন মামলার ভয় দেখান এবং রেকার বিল দেওয়ার কথা বলেন।
ভুক্তভোগী বলেন, “আমি তাদের বলেছি, আমার সব কাগজপত্র ঠিক আছে, তাহলে আমি কেন রেকার বিল দেব? এরপরও তারা আমাকে নানা ধরনের চাপ দিতে থাকেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তিনি ২০০ টাকা দিতে চাইলে তার হাত থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোহেল বলেন, “আমি একজন সরকারি কর্মচারী। আমার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ আশা করেছিল পুলিশ বাহিনীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমি নতুন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পাকিজা ট্রাফিক চেকপোস্টে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন অজুহাতে যানবাহন থামিয়ে চালকদের ভোগান্তির মুখে ফেলা হয়। ফলে সাধারণ চালকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে