1. [email protected] : Ghoshana Desk :
  2. [email protected] : Mahir Al Mahbub : Mahir Al Mahbub
  3. [email protected] : Masud Khan : Masud Khan
গোডাউনেই নষ্ট হচ্ছে পাট : ৯ মাস ধরে রপ্তানি বন্ধ, বেকারত্বের মুখে ১০ হাজার শ্রমিক - দৈনিক ঘোষণা
ব্রেকিং নিউজ :
সুনামগঞ্জে ব্র্যাকের উদ্যোগে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পাওয়ার টিলার ও ভার্মি কম্পোস্ট বিতরণ কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করলেন মোঃ টিপু সুলতান সাভারে ট্রাফিক চেকপোস্টে হয়রানির অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের দাবি রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত টাকা দিলে যখন তখন স্বজনদের সঙ্গে হাজতির দেখা মিলে  ঘোড়াঘাটে জুয়ার আসর ভাঙতে তিন থানার সমন্বিত অভিযান ফরিদপুরে বিএডিসির গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বাল্বলেট উৎপাদন প্রশিক্ষণ  গোডাউনেই নষ্ট হচ্ছে পাট : ৯ মাস ধরে রপ্তানি বন্ধ, বেকারত্বের মুখে ১০ হাজার শ্রমিক লালমোহনে বালুবাহী ট্রাকসহ ধসে পড়ল ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, চালক নিহত ধামরাইয়ে সওজের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, চালক রক্তাক্ত, সাময়িক বন্ধ

গোডাউনেই নষ্ট হচ্ছে পাট : ৯ মাস ধরে রপ্তানি বন্ধ, বেকারত্বের মুখে ১০ হাজার শ্রমিক

reporter মোঃ রবিউল হোসেন খান, খুলনা ব্যুরো
calendar প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ

খুলনা অঞ্চলে প্রায় ৯ মাস ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কাঁচাপাট রপ্তানি। কাঁচাপাটকে ” শর্তসাপেক্ষ” রপ্তানি পন্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই এই নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি রপ্তানিকারকদের। ফলে বিপুল পরিমান পাটও গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে, কমছে এর গুনগত মান ও বাজার মুল্য। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের লোকসান ও ব্যাংক ঋনের বোঝা আকাশচুম্বী হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনের শংকায় পড়েছেন অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক।
নিস্তব্দ পাট গোডাউন, ধবংসের মুখে সোনালী আশ : খুলনার দৌলতপুর, খানজাহানআলী আশপাশের এলাকায় পাট গোডাউন গুলোতে এখন বিরাজ করছে সুরসান নীরবতা। যে সময়টা বিদেশে পাঠানোর জন্য কাঁচাপাট বাছাই, প্রেসিং ও বেইলিংয়ের কাজে শ্রমিকরা ব্যস্ত থাকার কথা, সেখানে এখন নিস্প্রান। কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হাজার হাজার মন পাট মাসের পর মাস ধরে গুদামে মজুদ থাকায় নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাঁচাপাটকে শর্তসাপেক্ষ রপ্তানি পন্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই খুলনা থেকে রপ্তানি ধসে পড়ে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিল প্রক্রিয়ার কারনে বাস্তবে কাঁচাপাট রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনের দাবিতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে একাধিকবার স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি।
ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত, আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর শংকা: গাজী জুট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধীকারী গাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, ” রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমান পাট গুদামে আটকে আছে। এদিকে ব্যাংক ঋনের সুদ বাড়ছে, গুদাম ভাড়া ও রক্ষনাবেক্ষন ব্যয়ও হু হু করে বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে চরম দেউলিয়া হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছেন। দ্রুত রপ্তানি চালু না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মোঃ আলমগীর খান বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধানখাত কাঁচাপাট রপ্তানি। দীর্ঘদিন ধরে এইখাত অচল থাকায় ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমিক – সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান চিরতরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
উদ্ধেগজনক তথ্য : মে মাস পর্যন্ত রপ্তানি তলানিতে :
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ( ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে খুলনা অঞ্চল থেকে ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিকটন কাঁচাপাট রপ্তানি হয়েছিল। অথচ চলতি অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত তা কমে দাড়িয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৩০০ মেট্রিকটনে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় খুলনাঞ্চলের পাটখাত কতটা খাদের কিনারায় এসে দাড়িয়েছে।
১০ হাজার শ্রমিকের ঘরে উনুন জলছে না।
বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি : রপ্তানি বন্ধের সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। সংশ্লিষ্টদের মতে, খুলনাঞ্চলের প্রায় ২০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক সরাসরি কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। কাজ না থাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে দৌলতপুরের আব্দুল গফফার, সোহেল রানা কিংবা রহিমা বেগমের মতো হাজারো শ্রমিকের। সন্তান ও পরিবারের চিকিৎসা ও খাদ্য জোটাতে তারা এখন ধারদেনায় জর্জরিত। দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেইলিং ওয়াকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিঠু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ” শ্রমিকের জীবন – জীবিকা এখন চরম হুমকির মুখে। কয়েকদফা আন্দোলন করেও আমরা কোন দৃশ্যমান সমাধান পায়নি। দ্রুতই যদি সরকার আমাদের কর্মের ব্যবস্থা বা রপ্তানি সচল করতে না পারে, তবে হাজার হাজার শ্রমিককে সাথে নিয়ে আমরা আরোও বড় ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
আশ্বাসে সীমাবদ্ধ পাট অধিদপ্তর : এদিকে সমস্যা সমাধানের বিষয়টি এখনও শুধু আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। খুলনা পাট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সরজিৎ সরদার বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করছে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উদ্ধেগের বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। আমরা দ্রুত একটি ইতিবাচক সমাধানের আশা করছি। ” তবে সাধারণ মানুষও ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু ফাঁকা আশ্বাস নয়, সোনালী আশ আর মেহনতি মানুষকে বাঁচাতে অবিলম্বে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

একই রকম সংবাদ
© সকল স্বত্ব দৈনিক ঘোষণা অনলাইন ভার্শন কর্তৃক সংরক্ষিত
Site Customized By NewsTech.Com